Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

ডেঙ্গু জ্বরের ফলে কি কি সমস্যা দেখা দেয় ? ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

Fahima Akter Wednesday, January 12, 2022


ডেঙ্গু হচ্ছে এক ধরনের মশা বাহিত ভাইরাস সংক্রমণ। যা ফ্লুর মতো অসুস্থতা সৃষ্টি করে। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু হয়ে থাকে। ডেঙ্গু সংক্রমণের তিন থেকে চৌদ্দ দিন পর লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। লক্ষণ এবং উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে জয়েন্টে ও পেশীতে ব্যাথা, মাথাব্যাথা, উচ্চ জ্বর, ত্বকে ফুসকুড়ি, বমি বমি ভাব ইত্যাদি । কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু এমন অবস্থা সৃষ্টি করে যেটার জন্য মানুষের জীবন হুমকির সম্মুখীন হয় আর তখন সেটাকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বরও বলা হয়। 




হেমোরেজিক জ্বরের ফলে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়, যেমন- 

১. রক্তপাত হতে পারে

২. রক্তের প্লাজমা নষ্ট হতে পারে

৩. রক্তের প্লাটিলেটে কমে জেতে পারে 

৪. কখনো কখনো অত্যন্ত নিম্ন রক্তচাপও হতে পারে। 




কিছু কিছু জায়গায় ডেঙ্গুর উপদ্রব অধিক হারে বৃদ্ধি পায়। যেমন- 

১. শহুরে দরিদ্র এলাকায়

২. শহরতলী এবং গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু বিকশিত হয় 

৩. গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ -গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলিতে। 


যখন কোন মহিলা এডিস মশা কোন সুস্থ ব্যক্তিতে কামড় দিয়ে থাকে তখন সেই সুস্থ ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তারপর যখন সেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্য মশা কামড় দেয়, তখন মশার মধ্যেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে সেই মশা অন্যান্য ব্যক্তিদের কামড় দিয়ে ডেঙ্গু ছড়িয়ে দেয়। ডেঙ্গু জ্বর খুবই মারাত্মক। যদি এটার অবস্থা খারাপ পর্যায়ে চলে যায় সেই ক্ষেত্রে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি নিজেদের বসবাস করার আশেপাশে সব সময় ময়লা আবর্জনা থাকে তাহলে ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কেননা যেসব জায়গায় ময়লা আবর্জনা বেশি থাকে সেই সব জায়গায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেতে থাকে। যার কারণে বাড়ির আশেপাশে থাকা ময়লা আবর্জনা সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। 




ডেঙ্গুর কারণ 

আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই ডেঙ্গুকে অবহেলা করে৷ আর যারাই অবহেলা করে তারাই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। ডেঙ্গু একটি তীব্র রোগ। যা এডিস ইজিপ্টাই বংশের অনেক ধরনের মশার কারণে হয়। পাঁচ ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস আছে। যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে ডেঙ্গু জ্বরে পরিনত হয়। যদি কোন ব্যক্তির একবার ডেঙ্গু জ্বর হয় এবং সে যদি ভাবে পরবর্তীতে তার আর ডেঙ্গু জ্বর হবে না এটা ভুল ধারণা। সেই ব্যক্তিকে আজীবন ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। যদি কোন ব্যক্তির দুই বারের বেশি ডেঙ্গু হয় তাহলে সেই ব্যক্তির ডিএইচএফ হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। 'ব্যাকবোন ফিভার' ছাড়াও ডেঙ্গু 'ড্যান্ডি ফিভার' নামেও পরিচিত। ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর বিশেষ করে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রভাবিত করে।




ডেঙ্গুর লক্ষনের মধ্যে রয়েছে : 

 ১. উচ্চ জ্বর (১০১° থেকে ১০৩° তাপমাত্রা থাকতে পারে।)  

২. জয়েন্টে ব্যাথা

৩. মাথা ব্যাথা

৪. বমি বমি ভাব

৫. ক্ষুধা কমে যাওয়া

৬. অল্প খাবার খেলেই বমি হওয়া

৭. রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং ত্বকের একটি বিশেষ ফুসকুড়ি হতে পারে। যদিও বেশিরভাগ জ্বর এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় না, কিছু ক্ষেত্রে আরও জটিল হতে পারে এবং জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। পরবর্তী অবস্থাটি রক্তের প্লেটলেটের মাত্রা হ্রাস।

৮. চোখের পিছনের দিকে ব্যাথা করা। 

৯. ব্যক্তিভেদে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস/ বৃদ্ধি পেতে পারে। 

১০. তীব্র ঘাম হয়

১১. শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। 

১২. হাতের তালু এবং পায়ের তালু ফুলে যেতে পারে এবং উজ্জ্বল লাল হতে পারে। 


ডেঙ্গু যখন একটি প্রাণঘাতী রোগে পরিণত হয় তখন ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম নামে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জ্বরের কোনো লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে। কখনও কখনও লক্ষণগুলি হালকা হয় এবং ফ্লুতে ভুল হয়। 




ডেঙ্গুর প্রতিরোধ

১. ফুটানো পরিষ্কার পানি পান করতে হবে। সঠিক বর্জ্য নিষ্কাশন এবং জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে ।


২. মশা তাড়ানোর ঔষধও বেশ কার্যকর। কিন্তু সেগুলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাবধানতার সাথে ব্যবহার করা উচিত যেমন- 


(ক) 2 মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। 


(খ) 2 মাসের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য, ১০ শতাংশ DEET ধারণকারী প্রতিষেধক প্রয়োগ করাই ভালো। 


(গ) এগুলি হাত, চোখ বা মুখের কাছে প্রয়োগ করা এড়িয়ে চলতে হবে। 


(ঘ) এগুলো সবসময় শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং বুকের দুধ খাওয়ানো মহিলাদের থেকে দূরে রাখাই শ্রেয়। 


৩. আঁটসাঁট পোশাক পরিধান থেকে থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ ঢিলেঢালা এবং হাতা ঢাকা পোশাক পরলে মশা কামড়াতে পারে না। এছাড়া গাঢ় রঙের প্রতি মশাদের আকর্ষণ বেশি। তাই হালকা রঙের পোষাক পরিধান করাই ভালো । 


 ৪. যেহেতু ডেঙ্গু ভাইরাস সকাল এবং সন্ধ্যায় বেশিরভাগ সক্রিয় থাকে তাই দিনের এই সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।


৫. গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ -গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলগুলি বেশিরভাগ মানুষই ডেঙ্গু দ্বারা আক্রান্ত হয়। তাই এই অঞ্চলে বাস করা জনগণকে সম্পূর্ণ কাপড় পরিধান করা এবং মশা তাড়ানোর ক্রিম লাগিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ কভার রাখার চেষ্টা করতে হবে। 


৬. সন্ধ্যার পর পরই ঘরের দরজা জানালা লাগিয়ে দেওয়া উচিত। যাতে করে কোন ভাবে মশা ঘরে প্রবেশ করতে না পারে। 


৭. রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। 


৮. ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবসময় তরল জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। যেমন- ফলের জুস, ডাবের পানি, শরবত ইত্যাদি। একই সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং পানি জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। 


৯. বাড়ির চারপাশের আঙ্গিনা খুব ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। 




ডেঙ্গুর চিকিৎসা

প্রাথমিক পর্যায়ে ডেঙ্গু সংক্রমণের পর্যায় শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এর চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ঔষধ নেই। ডাক্তারদের মতে, ডেঙ্গুর চিকিৎসার একমাত্র ব্যবহারিক ব্যবস্থা হলো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাথা উপশমকারী ব্যবহার করা। প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়া। পর্যাপ্ত বিশ্রামও শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। চিকিৎসকরা জ্বর কমানোর জন্য রোগীদের প্যারাসিটেমল দিয়ে থাকে। যদি কোন ব্যক্তির হার্ট অথবা কিডনিতে সমস্যা থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে। কেননা চিকিৎসক তাহলে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ঔষধ দিয়ে থাকবেন৷ ডেঙ্গুর তিনটি পর্যায় রয়েছে, যেমন- এ, বি, সি 


যখন এ এবং বি অবস্থায় রোগী থাকে তখন তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি না করালেও হয়৷ কিন্তু যে সি অবস্থায় থাকে তাকে অবশ্যই চিকিৎসকরা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 


Share

You May Like

Cloud categories

hirsutism conjunctivitis pancreatic cancer gerd scabies parkinson's disease menstrual cramps warts cancer prevention dementia anaphylaxis indigestion laryngitis gastric heart disease abortion heart failure folic acid swine flu glaucoma influenza ankylosing spondylitis vomiting vitamin a deficiency peptic ulcer genital warts macular degeneration burning pain rickets skin back pain sore throat malaria runny nose stroke

দিন দিন ডিপ্রেশন বেড়ে যাচ্ছে কি

বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা ডিপ্রেশন। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, এমনকী ন ...

1 Like

নাভির মধ্যে ৬৭ রকম ব্যাক্টিরিয়ার উপস্থিতি টের পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

অনেকেই আছেন যারা অন্তরঙ্গ মুহূর্তে নাভিতে জিভ দিয়ে থাকেন । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীরে ...

0 Like

কেন ডাক্তাররা সিজার করেন? জেনেনিন সিজার করার কারণ সমূহ

স্বাভাবিক ডেলিভারি ঝুঁকিপূর্ণ হলে মা ও শিশুর সুস্থতার স্বার্থে সিজার পদ্ধতিতে ডেলিভারির প্ ...

2 Like

আপনি কি অ্যালকোহল পান করেন ? কিছু বিষয় যেনে পান করুন

অ্যালকোহল এমন একটা পানীয় যা দেখলেই পান করতে মন চায়। আগের দিনে অ্যালকোহল জলের বিকল্প হিসেব ...

2 Like

হটাত জ্বরে আক্রান্ত হলে করনীয়

জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। অনেক জ্বরেই কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। জ্বর হলে ...

1 Like

হোমিওপ্যাথি কিভাবে কাজ করে ? চিকিৎসা নেয়ার আগে কিছু পরামর্শ

হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান । মনেরাখতে হবে যে, রোগের লক্ষণগুলোই রোগের প ...

0 Like

হোমিওপ্যাথি কিভাবে কাজ করে ?, চিকিৎসা নেয়ার আগে কিছু পরামর্শ

হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান । মনেরাখতে হবে যে,রোগের লক্ষণগুলোই রোগের পর ...

0 Like

যে সব খাবার অল্প বয়সেই আপনাকে বিপাকে ফেলতেপারে

প্রাত্যহিক জীবনে কতো কিছুই না খাওয়া হয়। কিন্তু সবকিছু কি আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাওয়া যায়? ...

0 Like