Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

টাইফয়েড কেন হয়, কিভাবে এটি প্রতিরোধ করবেন

Fahima Akter Wednesday, September 15, 2021


টাইফয়েড হলো একটি মারাত্মক সংক্রমণ যা সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। বাংলাদেশের খুবই সচরাচর একটি রোগ হলো টাইফয়েড জ্বর। যদিও উন্নত দেশগুলোতে টাইফয়েড বিরল হয়ে উঠেছে। তবুও উন্নয়নশীল বিশ্বের মানুষেরা টাইফয়েড জ্বর থেকে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়। দূষিত খাবার এবং দূষিত পানির মাধ্যমে টাইফয়েড ছড়াতে পারে। জ্বরের মাধ্যমে মানব দেহে টাইফয়েডের উপসর্গ দেখা দেয়। 


পরিসংখ্যান দেখিয়েছে, শিশুরা এখনও বিকশিত ইমিউন সিস্টেমের কারণে টাইফয়েডের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। টাইফয়েডের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হলো জ্বর, মাথাব্যাথা, ডায়রিয়া এবং পেটে ব্যাথা। যথাযথ যত্ন এবং চিকিৎসার মাধ্যমে টাইফয়েড কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিরাময় করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলি কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয় বলে জানা যায়।




টাইফয়েডের কারণ

সালমোনেলা টাইফির নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে টাইফয়েড হতে পারে বলে জানা যায়। ব্যাকটেরিয়া মল-মৌখিক পথের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একজন সংক্রামিত ব্যক্তির প্রস্রাব বা মল থেকে ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে যায়। যদি সংক্রামিত পদার্থের সাথে দূষিত পানি, ফল এবং সবজি খাওয়া হয় তাহলে এটি সংক্রমণ আরও অনেক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে।


২০ জনের মধ্যে ১ জন আছে যাদের কোন অ্যান্টিবায়োটিক বা চিকিৎসা না করেই টাইফয়েড ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ন এলাকায় টাইফয়েডের ঝুঁকি বেশি থাকে। যেকোনো বয়সের মানুষেরই টাইফয়েড হতে পারে। তবে শিশুদের টাইফয়েড হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। শরীরে জীবাণু প্রবেশ করলেই যে টাইফয়েড হবে ব্যাপারটা এমন নয়। যেসব মানুষের দেহে রোগ প্রতিরোধ করার বেশি তাদের টাইফয়েড হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে। অন্য দিকে যাদের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম এবং যাদের শরীরে এইচআইভি রয়েছে তাদের টাইফয়েড হওয়ার সম্ভবনা বেশি রয়েছে। 


ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসার ৬ দিনের মধ্যে টাইফয়েডের লক্ষণ দেখা দেয়। টাইফয়েডের প্রধান লক্ষণগুলি হলো :


১/ শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়ে যায়। 


২/ উচ্চমাত্রার জ্বর আসে। 


৩/ মাথাব্যাথা


৪/ কাশি


৫/ কোষ্ঠকাঠিন্য


৬/ ডায়রিয়া


৭/ বমি


৮/ পেটে ব্যাথা


৯/ শারীরিক দুর্বলতা 


১০/ শরীর ক্লান্তি ভাব চলে আসা  


১১/ ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়৷ 


১২/ শরীর ম্যাজম্যাজ করে। 


১৩/ হৃদস্পন্দন কমে যায়। 


১৪/ জ্বর আসার দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রোগীর শরীরে ছোট ছোট গোলাপী রঙের দানার মতো গুটি দেখা দেয়। 


গুরুতর ক্ষেত্রে যদি টাইফয়েড রোগীর চিকিৎসা না করা হয় তাহলে টাইফয়েডের কারণে অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। এর মাধ্যমে, রোগীর পেরিটোনাইটিস নামে পরিচিত আরেকটি পেটের ইন্টার্নশিপ গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। টাইফয়েড জ্বর সেরে যাওয়ার পরেও শরীরে কিছু কিছু সময় ব্যাকটেরিয়া থেকে যায় । যার কারণে যেসব ব্যক্তিদের টাইফয়েড জ্বর হয়েছে তাদেরকে আলাদা ঘরে রাখাই ভালো। চিকিৎসকরা বলেছেন যে সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আলাদা থাকাই শ্রেয় । 




টাইফয়েড রোগ প্রতিরোধের উপায় গুলো হলো -

১/ টিকা নিতে হবে - দুটি প্রধান ধরনের টাইফয়েড ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। এই ভ্যাকসিন হেপাটাইটিস এ এবং টাইফয়েডের বিরুদ্ধে সুরক্ষার সংমিশ্রণ ভ্যাকসিনগুলি মানুষকে ৩ বছরের জন্য টাইফয়েড থেকে রক্ষা করে থাকে। 


২/ ভালো স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে। নিয়মিত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।


৩/ শাকসবজি, ফলমূল, খাবার প্লেট সবসময় পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। 


৪/ প্রতিটি খাবার খুব ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।  


৫/ যদি কোন ব্যক্তি ভ্রমণে যায়, আর ভ্রমণের জায়গা যদি অপরিষ্কার থাকে তাহলে অবশ্যই বোতলে ফুটানো পানি নিয়ে যেতে হবে। 


৬/ খাওয়ার পানীয়তে আইসক্রিম এবং বরফ এড়িয়ে চলতে হবে। 


৭/ রান্না না করা শাকসবজি এড়িয়ে চলতে হবে এবং কেবল সেগুলি সেবন করা উচিত যেগুলো নিজের হাতে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে৷ 


৮/ রাস্তার খোলা খাবার এবং রাস্তায় খোলা পানি পান করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। 


৯/ টয়লেট সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। টয়লেট পরিষ্কার করার পর,খাবার খাওয়া ও খাবার বানানোর পূর্বে খুব ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। 

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে জীবন যাপন করাই টাইফয়েড থেকে ভালো থাকার মূলমন্ত। 




টাইফয়েডের রোগ নির্ণয়

যদি টাইফয়েডের কোন উপসর্গ নিজের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে হবে। চিকিৎসক সংক্রমণটি শনাক্ত করার পর টাইফয়েড আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের সুরক্ষার জন্য বিচ্ছিন্নঘরে থাকতে বলেন। রক্ত, মল বা প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে টাইফয়েড নির্ণয় করা হয়। ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য নমুনাগুলি মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা হয়। কখনও কখনও, প্রথম পরীক্ষাগুলিতে ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা যায় না। তাই নিশ্চিতভাবে, একটি সিরিজ পরীক্ষা করতে হয়।


সবচেয়ে সঠিক উপায় হলো অস্থি মজ্জা পরীক্ষা। তবে এটি সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল হতে পারে। তাই এটি একটি শেষ অবলম্বন হিসাবে রাখা হয়। যদি কোন ব্যক্তিকে সংক্রমণের জন্য নিশ্চিত করা হয়। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও পরীক্ষা করা হবে। কেননা টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে পরিবারের অন্য কোন ব্যক্তির এটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 




টাইফয়েডের চিকিৎসা

যেহেতু টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, এটি এন্টিবায়োটিক কোর্সের মাধ্যমে চিকিৎসার করানো হয় । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, টাইফয়েড বাড়িতেই চিকিৎসা করা যায়। যাইহোক, যদি অবস্থা খুব গুরুতর হয়, রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করাতে হবে।


যদি কোন ব্যক্তি প্রাথমিক পর্যায়ে টাইফয়েড নির্ণয় করেন, সেই ক্ষেত্রে ডাক্তার রোগীকে ৭-১৪ দিনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের একটি কোর্স লিখে দিয়ে থাকেন। এই অ্যান্টিবায়োটিক গুলি টাইফয়েডের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা গড়ে তোলে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্থানীয় কোন ফার্মেসী থেকে ঔষধ সেবন করা ঠিক না। যদি কোন টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তি অল্প দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে যায়, তার শরীরের থাকা অবশিষ্ট ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলার জন্য নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ শেষ করতে হবে। 


ভালো ভাবে বিশ্রাম নিতে হবে। সেইসাথে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার মাধ্যমে ভালো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে । যদি রোগী গুরুতর উপসর্গের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়, রোগীকে একটি ড্রিপের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন এবং পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। যদি রোগীর অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের মতো কিছু প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দেয় তবে অস্ত্রোপচারও করা হয়। 


যাইহোক, টাইফয়েড খুব বিরল রোগ। হাসপাতালের যত্নের অধীনে, রোগীরা তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে। সামান্য ক্ষেত্রে, লক্ষণগুলি আবার দেখা দিতে পারে। এটি একটি রিলেপস নামে পরিচিত। এই ক্ষেত্রে, ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত। সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পরেও, টাইফয়েডেরের প্রভাবে কয়েক সপ্তাহ শরীরে ক্লান্তি অনুভব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 


Share

You May Like

Cloud categories

sunburn urinary incontinence gerd renal insufficiency vertigo ebola virus surgery hypertension fractures bacterial infections sex schizophrenia sle hepatic encephalopathy excessive sweating skin infections depression skin diseases dementia atherosclerosis skin grafts stiff neck kaposi's sarcoma diphtheria nausea gonorrhea illness dandruff calcium and vitamin d supplement iron supplement abdominal pain braces antiseptic hiv scratches hiv infection.

দিন দিন ডিপ্রেশন বেড়ে যাচ্ছে কি

বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা ডিপ্রেশন। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, এমনকী ন ...

1 Like

কেন ডাক্তাররা সিজার করেন? জেনেনিন সিজার করার কারণ সমূহ

স্বাভাবিক ডেলিভারি ঝুঁকিপূর্ণ হলে মা ও শিশুর সুস্থতার স্বার্থে সিজার পদ্ধতিতে ডেলিভারির প্ ...

2 Like

আপনি কি অ্যালকোহল পান করেন ? কিছু বিষয় যেনে পান করুন

অ্যালকোহল এমন একটা পানীয় যা দেখলেই পান করতে মন চায়। আগের দিনে অ্যালকোহল জলের বিকল্প হিসেব ...

2 Like

নাক বন্ধ হলে এন্টাজল দিলে কি ক্ষতি হয়?

 নাক বন্ধে নাকের ড্রপ ব্যবহারে কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?উত্তর: কিছু কিছু নাকের ...

0 Like

হটাত জ্বরে আক্রান্ত হলে করনীয়

জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। অনেক জ্বরেই কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। জ্বর হলে ...

1 Like

মাথায় উকুন হলে কি করবেন?

যার একবার হয়েছে সেই জানে এর কষ্ট। তাই তো সবাই বেঁচে বেঁচে থাকে উকুনের থেকে। কিন্তু তবু কি ...

0 Like

শীতকালে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ স্বাভাবিক ব্যাপার তবে যারা দীর্ঘদিন নাকের ড্রপ ব্যবহার করছেন তাদের কিছুটা সতর্ক হওয়া দরকার

কিছু কিছু নাকের ড্রপ আছে যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে স্যাল ...

2 Like

পেটের চর্বি কমানর সহজ কিছু ব্যায়াম। পর্ব ১

পেটের চর্বি কি আপনার ঘুম হারার করে দিয়েছে? আজকাল ছোট বর অনেকেই এই সমস্যায় জর্জরিত। কিন্তু ...

1 Like