Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

রক্তশূন্যতা

Fahima Akter Monday, August 23, 2021


রক্তকণিকার স্বল্পতাই রক্তশূন্যতা । রক্তশূন্যতা হলো এক ধরনের রোগ যা অস্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে এবং হালকা থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে। অপুষ্টির কারণেই সাধারণত রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। খাদ্যের মধ্যে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন থাকতে হবে, আয়রন যুক্ত খাবার না খেলে অথবা শরীর থেকে অনেক দিন ধরে রক্তপাত হলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। আমাদের রক্তের প্রধান অংশ হিমোগ্লোবিন নামে পরিচিত। এটি অক্সিজেন বহন করে এবং আমাদের সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। 


মানুষের শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দিলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায় এবং যদি এটি যথেষ্ট কম হয় তাহলে শরীরের অঙ্গ বা টিস্যুতে অক্সিজেনের সরবরাহ সঠিক ভাবে হয় না। বিশেষ করে ছোট বাচ্চা, নারী এবং দীর্ঘসময় ধরে যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকে তারা সাধারণত রক্তশূন্যতায় ভোগে থাকে । একজন রক্তশূন্য ব্যক্তি অনেক সময় ক্লান্ত এবং দুর্বল বোধ করতে পারে। বিশ্বব্যাপী দুই বিলিয়নেরও বেশি মানুষ রক্তশূন্যতায় ভুগছে। যা জনসংখ্যার ত্রিশ শতাংশেরও বেশি। 



বিভিন্ন কারণে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে যেমন-

১/ লোহিত রক্তকণিকার অভাবজনিত রক্তশূন্যতা : এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরনের অ্যানিমিয়া যেখানে ব্যক্তির রক্তে পর্যাপ্ত সুস্থ লোহিত রক্তকণিকার অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত রেড ব্লাড সেল উৎপন্ন না হওয়ার বিভিন্ন কারণে রয়েছে, যেমন- আয়রনের অভাবে, ভিটামিন-বি১২, ফলিক এসিড, অস্থিমজ্জার সমস্যা দেখা দিলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। মানব দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে না যা তাদের অক্সিজেন বহন করতে করে । শরীরে এই রক্তশূন্যতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। 


২/ অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া মাধ্যমে : যখন মানুষের শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন রক্তকণিকা উৎপাদন বন্ধ করে দেয় তখন একে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বলে । এই রোগ মানুষকে অনেক বেশিব ক্লান্ত করে ফেলে। এই ধরনের রক্তশূন্যতা যেকোনো বয়সেই হতে পারে। এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সময়ের সাথে খারাপ হতে পারে। অনেক সময় ঔষধের মাধ্যমে এই রোগ সারানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। যার কারণে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে শরীরে অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা করাতে হয় ।


৩/ কোষ রক্তশূন্যতা : এই ধরনের রক্তশূন্যতা একটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত লাল রক্ত ​​কোষের ব্যাধি যেখানে, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর লাল রক্ত ​​কোষ নেই যা মানুষের শরীর জুড়ে সঠিকভাবে অক্সিজেন বহন করে। সাধারণত গোলাকার লোহিত কণিকা নমনীয় এবং রক্তনালীর মাধ্যমে সহজেই চলাচল করে। এতে লোহিত রক্তকণিকা ক্রিসেন্ট আকারে থাকে। এগুলি অনমনীয় এবং আঠালো কোষ। যা ছোট রক্তনালীতে আটকে যেতে পারে যা মানুষের শরীরের অংশগুলিতে রক্ত ​​প্রবাহ এবং অক্সিজেনকে ধীর বা এমনকি বাধা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ধরনের রক্তশূন্যতার কোন প্রতিকার নেই। কিন্তু ঔষধের সাহায্যে ব্যাথা কমতে পারে সেইসাথে জটিলতা এড়ানোও সম্ভব হয়ে যায়।


৪/ ভিটামিনের অভাবজনিত কারণে রক্তশূন্যতা : মানুষের শরীরে ভিটামিনের পরিমাণ কম হলে স্বাস্থ্যকর লাল রক্ত ​​কণিকার অভাব হয়। ভিটামিনের অভাবজনিত রক্তাল্পতার সাথে যুক্ত ভিটামিনগুলির মধ্যে রয়েছে ফোলেট, ভিটামিন বি১২ এবং ভিটামিন সি।এই রোগ দেখা দিতে পারে যদি ফোলেট, ভিটামিন বি১২ বা ভিটামিন সি যুক্ত খাবার যদি সঠিকভাবে গ্রহণ না করা হয়। শরীর যদি সঠিকভাবে ভিটামিন শোষণ করতে না পারে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট শরীরে গ্রহণ করাতে হবে, এইভাবে এই রোগ নিরাময় করা যায়।


৫ / থ্যালাসেমিয়া : থ্যালাসেমিয়া একটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত রোগ যেখানে মানুষের শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে কম হিমোগ্লোবিন থাকে। যদি শরীরে হালকা থ্যালাসেমিয়া থাকে তবে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে গুরুতর থ্যালাসেমিয়াতে নিয়মিত রক্ত ​​দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম মানুষের ক্লান্তি এবং থ্যালাসেমিয়া মোকাবেলায় সাহায্য করতে পারে।



রক্তশূন্যতার লক্ষণ 

রক্তশূন্যতা যখন ঘটে তখন মানুষের রক্তে পর্যাপ্ত লোহিত রক্তকণিকা থাকে না। এটি হতে পারে যখন শরীর সঠিক পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করে না। রক্তপাত মানুষকে রক্তশূন্যতার দিকেও নিয়ে যেতে পারে। কারণগুলির মধ্যে রয়েছে গ্যাস্ট্রিকের অবস্থা যেমন- আলসার, অর্শ্বরোগ, পেটের প্রদাহ ইত্যাদি। পোস্ট ট্রমা এবং অস্ত্রোপচারের পরেও রক্তাল্পতা হতে পারে। কিছু কিছু ঝুঁকির কারণ রয়েছে যা রক্তাসল্পতার ঝুঁকি আরো বাড়ায় যেমন:

১. ৫৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষ

২. পারিবারিক ইতিহাস

৩. দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা যেমন- ক্যান্সার, কিডনি বিকল হওয়া বা ডায়াবেটিস

৪. গর্ভাবস্থা

৫. অন্ত্রের ব্যাধি

৬. খাদ্যের মধ্যে ভিটামিন এবং খনিজের অভাব থাকলে 

৭. যারা ঘন ঘন রক্ত ​​দান করে

৮. শিশুদের 



কখনও কখনও রক্তশূন্যতার লক্ষণগুলি এত হালকা হয় যে এটি অদৃশ্য হয়ে যায়। যখন রক্তকণিকা কমে যায় তখন প্রায়ই এইসব উপসর্গ দেখা দেয়। রক্তশূন্যতার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। যেমন-

১. মাথা ঘোরা

২. বুক ধড়ফড় করা

৩. হালকা মাথা ব্যাথা বা অনুভূতি এমন হওয়া যে কোনও মুহূর্তে অজ্ঞান হতে পারেন।

৪. দ্রুত বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন

৫. মাথাব্যাথা

৬. মানুষের হাড়, বুক, পেট এবং জয়েন্টগুলোতে ব্যাথা। 

৭. বৃদ্ধির সমস্যা, শিশু এবং কিশোরদের জন্য।

৮.নিঃশ্বাসের দুর্বলতা

৯. ত্বক ফ্যাকাশে বা হলুদ রঙের মতো হওয়া। 

১০. হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। 

১১. ক্লান্তি বা দুর্বলতা এবং কম অনুভূতি। 



রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ 

কোষ তৈরির প্রক্রিয়ায় ভাঙ্গনের কারণে কিছু ধরণের রক্তশূন্যতার কোনো প্রতিকার নেই। খাদ্যতালিকাগত ঘাটতি জনিত কারণে রক্তশূন্যতা নিয়মিতভাবে দুগ্ধজাত পণ্য, চর্বিহীন মাংস, তাজা ফল, বাদাম এবং শাকসবজি সহ বিভিন্ন ধরণের খাবার খেয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। অবশ্যই ভিটামিন ও খনিজ জাতীয় খাবার খেতে হবে। আয়রনের অভাব হলে আয়রন জাতীয় খাবার / ট্যাবলেট খেতে হবে। এছাড়াও আয়রন যুক্ত কিছু খাবার যেমন- কচুশাক, লালশাক, কলিজা, কাঁচাকলা, ডাঁটা ইত্যাদি জাতীয় খাবার খেতে হবে। ফলের মধ্যে আপেল, বেদেনা, পেয়ারা, তরমুজ ইত্যাদি জাতীয় ফল খেতে হবে। আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে তাজা শাক-সবজি অনেক উপকারী। যেমন - টমেটো, ব্রকলি, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছ, লাল মাংস রক্তশূন্যতার ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে থাকে। 



রোগ নির্ণয় 

রোগীর রক্তশূন্যতা আছে কিনা তা জানতে ডাক্তার রোগীর চিকিৎসা ও পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে থাকে। সেই সাথে শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষাও করতে পারেন। চিকিৎসক নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলির জন্যও কিছু তথ্য জিজ্ঞাসা করতে পারে :


রক্ত ​​গণনা: এটি একটি পরীক্ষা যা রক্তে রক্ত ​​কণিকার সংখ্যা গণনা করে। ডাক্তার রক্তে থাকা লোহিত রক্তকণিকা এবং হিমোগ্লোবিনের বিষয়বস্তু খোঁজেন।


রক্ত কোষের আকৃতি এবং আকার নির্ধারণের জন্য পরীক্ষা করতে হবে। ডাক্তাররা লোহিত রক্তকণিকার অস্বাভাবিক আকার এবং মাপ দেখে থাকেন। 



রক্তশূন্যতার চিকিৎসা 

বিভিন্ন রক্তশূন্যতার জন্য বিভিন্ন রকমের চিকিৎসা রয়েছে। আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা ডাক্তার দ্বারা নির্ধারিত আয়রন সম্পূরক গ্রহণের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে। থ্যালাসেমিয়া এবং এপ্লাস্টিক ধরণের রক্তশূন্যতা রক্ত ​​সঞ্চালন বা অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে।


দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। যেটার অন্তর্নিহিত পর্যবেক্ষণ করা ডাক্তারদের উপর নির্ভর করে। ভিটামিনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতা ভিটামিন বি১২ গ্রহণের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। সিকেল সেল অ্যানিমিয়া ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন থেরাপির সাথে জড়িত।

হিমোলাইটিক রক্তাসল্পতা ইমিউনোসপ্রেসেন্ট ঔষধ, সংক্রমণের চিকিৎসা এবং প্লাজমাফেরেসিসের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়, যা রক্তকে ফিল্টার করে থাকে। 


Share

You May Like

Cloud categories

fertility back pain renal insufficiency kidney disease tic disorders first iron deficiency gastric ulcer laryngitis stiff neck macular degeneration ascites zinc shoulder pain hives sleep disorder illness carcinomas pain high blood pressure tetanus burns peptic ulcer prevention of tuberculosis seizures common krait severe eczema hirsutism pertussis dry mouth constipation gastroesophageal reflux disease (gerd) ischemic stroke meningitis fatigue disinfectant

Famous Spa BD

location13th Floor, Meher Monas, 12/B Rd 55, Dhaka 1212, Dhaka, Dhaka - 1212, BangladeshPh ...

0 Like

মজার কিছু স্বাস্থ্য তথ্য

১) গরুর দুধ খেলে কোলেস্টেরল বাড়েনা বরং কমে। কিডনি ডেমেজ হলে খাওয়া যাবেনা।২) আপনি জানেন কি? ...

0 Like

Share of population living at below $5.5 a day

Share of population living at below $5.5 a dayNigeria: 92.1%India: 86.8%Ethiopia: 84.7%Ban ...

0 Like

আল্লাহর প্রকৃত বান্দা তারাই যারা সুখে-দুঃখে সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করে

মানুষ বিপদের সময় আল্লাহকে যতটা স্মরণ করে সুখের সময় ততটা করে না। মানুষ যদি সবসময় সুখে থা ...

0 Like

রাতে ঘুম না হলে তাৎক্ষনিক যা করতে পারেন

ঘুম না হলে শরীর মন কিছুই ভাল থাকে না।  ঘুম না হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে আমরা সে দিকে ...

2 Like

নগদের

নগদের সাম্প্রতিক কর্মকান্ড নগদ ব্যাবহার কারিদের মধ্যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ন ...

0 Like

১ থেকে ২০ এর ঘরের নামতা

১ এর নামতা১ × ১ = ১১ × ২ = ২১ × ৩ = ৩১ × ৪ = ৪১ × ৫ = ৫১ × ৬ = ৬১ × ৭ = ৭১ × ৮ = ৮১ × ৯ = ...

0 Like