Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিস

Fahima Jara Saturday, August 28, 2021


গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (GDM) সাধারণত গর্ভাবস্থায় মহিলাদের প্রভাবিত করে। জীবনযাত্রার অনেক সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কারণে, মহিলারা এখন গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রায়ই মহিলাদের জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে টাইপ-2 ডায়াবেটিস হতে পারে। যাইহোক, এটি অপরিহার্য নয়। যে কেউ স্থায়ীভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে। যদিও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস একটি স্থায়ী অবস্থা নয়। 


গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিস হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া উচিত। তা না হলে শিশুর জন্মের সময় মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এর মানে এই নয় যে, একটি অস্বাস্থ্যকর শিশুর জন্ম হবে। তবে, খাদ্যের তালিকার মধ্যে চিনি/ মিষ্টি জাতীয় খাবারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জিডিএম রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। যার কারণে এটি মা এবং শিশু দুইজনেরই স্বাস্থ্যের উপর ঝুঁকিপূর্ন প্রভাব ফেলতে পারে।


জিডিএম তখনই ঘটে, যখন গর্ভকালীন মায়ের শরীর শিশুর সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। যেহেতু গর্ভাবস্থায় গর্ভকালীন মায়ের শরীরের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, সেহেতু জিডিএম একটি সাধারণ ঘটনা যা প্রায়ই প্রসবের পরে একটি সুস্থ শাসনের সাথে হ্রাস পায়। গর্ভাবস্থায় যদি কেউ যথাযথভাবে নিজের যত্ন না নেয়, বাইরের খাবার খায়, এবং হালকা হাটাহাটি বা ব্যায়াম না করে তাহলে জিডিএম টাইপ- 2 ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা থাকে।  এশিয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যের মহিলারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। যদি কোন মহিলা আগে থেকেই সঠিক ডায়েট অনুসরণ করে থাকে এবং নিয়মিত ব্যায়ামের সাথে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করে, তাহলে এই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে না। 



গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসের কারণ ও লক্ষণ

যদিও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বংশগত নয়, এটি গর্ভবতী মহিলাদের বিভিন্ন কারণে প্রভাবিত করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হচ্ছে জীবনধারার সমস্যা। এর কারণ হল বেশিরভাগ মানুষই এখন মানসিক চাপে পরিপূর্ণ। পরিষ্কার বা পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং সুস্থ ভাবে জীবনযাপন করার সময় কম। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ অতিরিক্ত ওজন। মোটা এবং অতিরিক্ত ওজনের মহিলারা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। যারা গর্ভাবস্থার আগে থেকেই স্বাস্থ্যকর নিয়ম মেনে চলে তাদেরকে এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় না । 


বংশগত কারণে যদি কারো পরিবারের কোন সদস্যের মধ্যে ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে গর্ভাবস্থায় সেই ব্যক্তির ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ডায়াবেটিস এমন একটি সমস্যা যা ভারতীয় উপমহাদেশে এখন সাধারণ হয়ে গেছে। যদি কোন ব্যক্তির শরীরে ডায়াবেটিস না থাকে, কিন্তু রক্তে শর্করার মাত্রা উচ্চ পরিমাণে থাকে তাহলে গর্ভাবস্থায় সেই ব্যক্তির ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভাবস্থায় রক্তে উচ্চ মাত্রায় শর্করা থাকার কারণে জিডিএম হতে বাধ্য হয়। কারণ এই সময় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের ব্যবহার দ্বিগুণ হয় এবং এটি রক্তে শর্করার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়ে থাকে।


একটি মেয়ো ক্লিনিকের গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মহিলারা ৪ কেজির বেশি ওজনের বাচ্চা প্রসব করেছিলেন তাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২৫ বছর বয়সের পরে গর্ভধারণকারী মহিলাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটি সত্য হয়ে উঠেছে কারণ পিসিওডি (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ) দ্বারা অধিক সংখ্যক নারী আক্রান্ত হয়। পিসিওডি রক্তে উচ্চ মাত্রায় শর্করা সৃষ্টি করতে পারে। অতএব, যেসব মহিলার পিসিওডি বা পিসিওএস থাকে, তাদের নিরাপদ থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা যা বেশিরভাগই গর্ভাবস্থার ২৪ তম সপ্তাহের পর পরীক্ষার দ্বারা ধরা পড়ে । খুব কম মহিলাই রয়েছে যাদের গর্ভধারণের পর ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। সেইজন্য কোন মহিলা যখন গর্ভবতী হয় সেটা জানার পর পর তার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।


এছাড়াও কোন গর্ভবতী মহিলা যখন খুব ঘন ঘন তার রক্তে শর্করার মাত্রায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখতে পায় তখন অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। গর্ভকালীন সময়ে জীবনযাপনের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। কিন্তু যদি রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় তবে ক্লান্তি, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা প্রস্রাব বৃদ্ধি পায়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস অনেক কারণে হতে পারে। এই ধরণের ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলি খুব হালকা হয়ে থাকে। তাই গর্ভবতী মহিলার জন্য গর্ভাবস্থার সমস্ত পরবর্তী প্রভাবগুলি পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন।  


এছাড়াও কিছু কিছু লক্ষনের মাধ্যমে বুঝা যায় গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস আছে কি না। যেমন- 

১. প্রচুর পানি পান করার পরেও বার বার পিপাসা পাওয়া।


২. চোখে ঝাপসা দেখা।


৩. মুখ এবং জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া। 


৪. স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রসাব করা ।


৫. ঘন ঘন বিভিন্ন রোগে সংক্রমন হওয়া। 


৬. ক্ষুধার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। 


৭. তিন মাস না হতেই অতিরিক্ত বমি আসা। 


৮. প্রচুর ক্লান্তিকর অনুভব করা। 



গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসের প্রতিরোধ

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ধরা পড়ার সময় প্রথম এবং প্রধান কাজটি হল একজন ক্লিনিকাল পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করা। যিনি গর্ভবতী মহিলার ডায়েট চার্ট তৈরিতে সাহায্য করতে পারেন। এমনকি গর্ভাবস্থায় ডায়েট চার্টের পরামর্শের জন্য অনলাইনে দেখার কথা ভাবা উচিত নয়। কারণ প্রতিটি শরীর এবং প্রতিটি গর্ভাবস্থা আলাদা এবং সেভাবেই মোকাবেলা করা উচিত। সাম্প্রতিক সময়ে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ দেশের বেশিরভাগ বাজারগুলি কীটনাশক এবং নিষিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে ভরপুর। যা আমাদের স্বাস্থ্যর জন্য খুবই ক্ষতিকর। এগুলি আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। 



নিম্নলিখিত উপায়গুলি যার মাধ্যমে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব : 

১/ গর্ভাবস্থার জন্য ইতিবাচক পরীক্ষা করার পরেও একটি সঠিক খাদ্য এবং ব্যায়াম অনুসরণ করতে হবে । অনেক মহিলা ব্যায়াম করা বন্ধ করে দেন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুরু করে এবং প্রায়ই অই সব মহিলাদের গর্ভাবস্থার ২৪ তম সপ্তাহে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়।


২/ যদি কোন ব্যক্তি সারা জীবন নিষ্ক্রিয় থাকতে চায়, তাহলে সপ্তাহে অন্তত তিনবার ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের পরিমাপের মাত্রা BMI এবং BMR বজায় রাখার জন্য সপ্তাহে তিনবার ন্যূনতম ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে ।


৩/ আস্ত শস্য, সমৃদ্ধ আঁশযুক্ত খাবার এবং প্রোটিন বোঝাই খাবারগুলি মানুষের রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সাথে সাথে সঠিক খাদ্য পরিচালনা দিকে নজর রাখতে হবে। অর্থাৎ নিজের শরীরের উপর এমন কোন কাজের চাপ দেওয়া যাবে না যেটা শরীরের ফিটনেসকে খারাপ করে দেয়। 


৪/ যদি কেউ গর্ভাবস্থার আগে মোটা হয়ে থাকে, তাহলে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করা যাবে না। কারণ এটি গর্ভে থাকা শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সবসময় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং পুষ্টিবিদদের সাথে পরামর্শ করে চলতে হবে। গর্ভাবস্থায় ওজন হ্রাস করা ভাল বলে বিবেচিত হয় না। তাই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসকে দূরে রাখতে হলে সবসময় চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।



গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

যেহেতু গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা যা শিশু এবং মায়ের স্বাস্থ্য উভয়কেই প্রভাবিত করে। তাই চিকিৎসার কৌশলগুলোতে নির্দিষ্ট জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা আবশ্যক। কারণ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক প্রয়োজন। একটি সঠিক সুষম খাদ্য অনুসরণ করতে হবে। পুষ্টিবিদ দ্বারা অনুমোদিত সকল খাবার খাদ্যের তালিকায় রাখতে হবে। চিকিৎসকরা খাদ্যের তালিকায় চিনির মাত্রা কম রাখতে বলেন। কেননা চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে শিশুর বিকাশেও সহায়তা করে। বেশিরভাগ মহিলাদের প্রতিদিন ২২০০-২৫০০ ক্যালরির মধ্যে খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যদি গর্ভবতী মহিলার ওজন বেশি হয় তবে এটি প্রতিদিন ১৮০০-২০০০ ক্যালোরিতে নেমে আসতে পারে।


চিকিৎসকরা বলেছেন গর্ভাবস্থায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ব্যায়ামের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। সেইসাথে তারা প্রসব-পূর্ব ফিটনেসকেও সমর্থন করে থাকে । রক্তে শর্করার মাত্রাও প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা উচিত। নির্ধারিত তারিখ আসার আগে, ডাক্তাররা সাধারণত শিশুর বৃদ্ধি এবং আরও নিবিড়ভাবে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। সেইসাথে এটাও দেখেন যে শিশুর বিকাশ সঠিক পথে আছে কিনা। তাই গর্ভধারণ করার পর থেকে প্রসব করার পূর্ব পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। 



Share

You May Like

Cloud categories

gas flatulence cervicitis stiff neck children and adults trauma sle helicobacter pylori kidney disease contact dermatitis eczema gastric folic acid heart disease rickets burning acute myocardial infarction nose lymphomas sperm production rheumatoid arthritis bone irritable bowel syndrome severe eczema dry skin bacterial anxiety disorders neuropathy cold excessive sweating bones and joints indigestion spine in old age osteoporosis acne

নাক বন্ধ হলে এন্টাজল দিলে কি ক্ষতি হয়?

 নাক বন্ধে নাকের ড্রপ ব্যবহারে কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?উত্তর: কিছু কিছু নাকের ...

0 Like

গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করার পদ্ধতি

আজকাল নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে সিসি ক্যামেরা মানে গোপন ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আবার বেশ কিছ ...

2 Like

স্ত্রী সহবাসের সুন্নাত নিয়ম?

সহবাসের সঠিক নিয়ম হলো স্ত্রী নিচে থাকবে আর স্বামী ঠিক তার উপরি ভাবে থেকে সহবাস করবে। মহান ...

1 Like

মাসিক হবার কত দিন আগে বা পড়ে কনডম ছাড়া সেক্স করা নিরাপদ

মাসিকের সময়ে শারীরিক মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা থাকে না, তবে এই সময়ে শারীরিক মিলন থেকে ...

1 Like

শীতকালে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ স্বাভাবিক ব্যাপার তবে যারা দীর্ঘদিন নাকের ড্রপ ব্যবহার করছেন তাদের কিছুটা সতর্ক হওয়া দরকার

কিছু কিছু নাকের ড্রপ আছে যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে স্যাল ...

1 Like

রোজায় চোখের বা নাকের রোগীদের যে সমস্যা হয়

রোজায় চোখের বা নাকের রোগীরা যে সমস্যায় পড়েন সেটি হল রোজা রাখা অবস্থায় ড্রপ ব্যবহার করতে পা ...

1 Like

কোমর ব্যথার কারণ ও দূর করার উপায়

কোমর ব্যথার সমস্যায় কমবেশি সকলেই ভুগে থাকেন, আসুন জেনে নিই কোমর ব্যথার কারণ ও দূর করার উপা ...

0 Like

হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড কি সত্যি কানের মল দুর করতে পারে?

বাজারে যেইসব কানের ড্রপ পাউয়া যায় ওইগুলার একটা কমন উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড। কিন ...

2 Like