Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

যক্ষ্মা কেন হয়? যক্ষ্মার কারণ, লক্ষণ, টিকা ও যক্ষ্মার চিকিৎসা

Fahima Akter Saturday, August 28, 2021


যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ। যা বেশিরভাগ সময় ফুসফুসকে প্রভাবিত করে। কিন্তু এটি শরীরের অন্যান্য অংশকেও প্রভাবিত করতে পারে। এটিকে ছোঁয়াচে রোগ হিসেবে বিবেচিত করা হয়। যক্ষ্মা বা টিবি সহজেই বাতাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। ফুসফুস ছাড়াও যক্ষ্মা শরীরের আরো অনেক স্থানেই হতে পারে। যেমন- অন্তে, হৃদপিন্ডে, লসিকাগ্রন্থিতে। যক্ষ্মায় আক্রান্ত ব্যক্তির আশে পাশে থাকলে এটি ছড়ায় না। এছাড়াও করমর্দন করা, বা সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে খাবার ভাগ করলে টিবি হয় না। প্রায় মানুষের শরীরেই যক্ষ্মা জীবাণু থাকতে পারে। কিন্তু যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তাদের শরীরে জীবাণু ছড়াতে বাধা দিয়ে থাকে। এটিকে বলা হয় সুপ্ত যক্ষ্মা । 


সুপ্ত যক্ষ্মার কয়েকটি উপসর্গ হল কাশি, রাতে ঘাম, ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, ফ্লুর মতো লক্ষণ এবং জ্বর। এই ক্ষেত্রে, সংক্রামিত ব্যক্তি সংক্রামক নয়। অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে সুপ্ত যক্ষ্মা প্রতিরোধ করা যায়। এটি সংক্রমণকে সংক্রামক করে তোলে। সুপ্ত যক্ষ্মার কিছু উপসর্গ হল ঠান্ডা লাগা, জ্বর, ক্ষুধা কমে যাওয়া, কাশি দিয়ে রক্ত ​​যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুকে ব্যাথা, সব সময় ক্লান্ত বোধ করা, কাশি যা তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, ওজন কমে যায়। 


সুস্থ ইমিউন সিস্টেম প্রায়ই যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু যদি একজন ব্যক্তি ডায়াবেটিস, গুরুতর কিডনি রোগ, ক্যান্সার এবং কেমোথেরাপি, কম ওজন এবং অপুষ্টি, এইচআইভি বা এইডস, এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির সক্রিয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়ে। বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু এবং ছোট শিশুদের যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। কেননা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক দুর্বল।



যক্ষ্মার কারণ ও লক্ষণ

জনাকীর্ণ বাস বা ট্রেনে ভ্রমণ করলে টিবি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। এই টিবি রোগ যখন বেসিলি সক্রিয় হয়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তখন নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি করে। চিকিৎসকরা বলেছেন যে, অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা, পুষ্টির অভাব এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে যে কোনো ব্যক্তির মধ্যে টিবি হতে পারে। যেখানে সেখানে থুথু ফেললে, হাচি-কাশি দিলে টিবি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। 


টিবি দুই প্রকার, যথা -

১.সুপ্ত টিবি সংক্রমণ এবং 


২. টিবি রোগ। 


যখন কোন ব্যক্তি টিবি ব্যাকটেরিয়াতে আক্রান্ত হয়, সেই ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আসতে আসতে কমে যায়। এই ক্ষেত্রে, টিবি ব্যাকটেরিয়া ব্যক্তিকে অসুস্থ না করেই শরীরে বাস করতে থাকে। যদি মানবদেহে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে সুপ্ত টিবি সংক্রমণ টিবি রোগে রূপান্তরিত হয়।



যক্ষ্মা রোগের লক্ষণগুলি হলো :

১/ খারাপ কাশি যা তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হতে পারে।


২/ বুকে ব্যথা


৩/ রক্ত ​​কাশি


৪/ ক্লান্তি এবং দুর্বলতা


৫/ ওজন কমে যাওয়া 


৬/ ক্ষুধামান্দ্য


৭/ একটানা কাশি


৮/ নিঃশ্বাসের দুর্বলতা


৯/ জ্বর এবং সর্দি


১০/ রাতে শরীর ঘেমে যাওয়া 


১১/ শ্লেষ্মা উৎপাদনে প্রগতিশীল বৃদ্ধির সাথে কাশি


১২/ শ্বাস ও কাশির সময় ব্যাথা অনুভব করা 



টিবির লক্ষণগুলি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। বিভিন্ন টিবির প্রকার এবং তাদের লক্ষণ নিম্নরূপ:


১. লিম্ফ নোডে টিবির আক্রান্ত কারো গলা ফুলে যেতে পারে।


২. হাড়ের টিবি জয়েন্টে এবং হাড়ের মধ্যে ব্যাথা বাড়িয়ে দেয় ।


৩. টিবি মেনিনজাইটিসে প্রায়ই গুরুতর মাথাব্যাথা, বমি, আলোর অপছন্দ, ঘাড় শক্ত হওয়া এবং খিঁচুনির মতো লক্ষণ থাকে।


৪. স্পাইনাল টিবি স্পন্ডিলাইটিস বা পট ডিজিজ নামেও পরিচিত। পট রোগের লক্ষণগুলি রোগের পর্যায় এবং আক্রান্ত স্থানের উপর নির্ভর করে। কিন্তু পিঠের ব্যাথা এই ক্ষেত্রে প্রাথমিক এবং সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।


৫. গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল টিবিকে পেটের টিবিও বলা হয়। পেটের টিবির লক্ষণগুলি হতে পারে পেটে ব্যাথা, ডায়রিয়া এবং মলদ্বার থেকে রক্তপাত হওয়া ।



যক্ষ্মা রোগের প্রতিরোধ : 

১/ যক্ষ্মা প্রতিরোধের প্রথম অংশ হল এক ব্যক্তির থেকে অন্য ব্যক্তির সংক্রমণ প্রতিরোধ করা।


২/ যে ব্যক্তি টিবি রোগে আক্রান্ত তার ঘর সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এমন ঘরে থাকতে হবে যেখানে ভালো ভাবে আলো বাতাসের চলাচল থাকে।কেননা টিবির জীবাণু সহজেই বন্ধ ঘর এবং নোংরা জায়গায় ছড়িয়ে যেতে পারে। 


৩/ যক্ষ্মার টিকা নিতে হবে । ভ্যাকসিন - ব্যাসিলাস ক্যালমেট -গেরিন (বিসিজি) - শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর এবং বড়দের ক্ষেত্রে খুব বেশি কার্যকর নয়।


৪/ এমন ব্যক্তির সাথে বেশি সময় কাটানো যাবে না যার সক্রিয় টিবি আছে। কমপক্ষে ২ সপ্তাহ হয়ে গেছে কিন্তু টিবি আক্রান্ত ব্যক্তি যদি চিকিৎসকের কাছে না যায় তার সাথে কথা বলার সময় অবশ্যই ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। 


৫/ যক্ষ্মার বিস্তার রোধ করার জন্য প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


৬/ রোগীর ঘরে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা, যক্ষ্মার জীবাণু সহজেই ছোট বদ্ধ স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ফ্যান চালানোর পরবর্তীতে বাহিরে থেকে আসা বাতাস রোগীর শরীরে লাগাতে হবে। 


৭/ সক্রিয় যক্ষ্মার চিকিৎসার প্রথম কয়েক সপ্তাহের সময় কর্মক্ষেত্রে, স্কুলে, অথবা বাহিরে কোথাও যাওয়া যাবে না। অন্য কোন সুস্থ মানুষের সাথে এক ঘরে ঘুমানো যাবে না। 


৮/ হাঁচি, কাশি দেওয়ার সময় হাত মুখের কাছে রাখতে হবে। পরে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত, মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। 




বিসিজি টিকা হল:

১. ১৫ বছর ধরে টিবি প্রতিরোধে ৮০%কার্যকর।


২. শিশুদের টিবি জটিল ফর্মের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর।


৩. ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য সীমিত কার্যকারিতা প্রদান করে।


৪. নিরক্ষীয় অঞ্চলে দেওয়া হলে কম কার্যকর। 


৫. যেহেতু টিবি একটি বায়ুবাহিত সংক্রমণ।টিবি জীবাণু বাতাসে নির্গত হয়। যখন টিবিতে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দেয় তখন কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। 



যক্ষ্মার চিকিৎসা 

যক্ষ্মার চিকিৎসার একমাত্র উপায় হলো টিকা এবং ঔষধ । অন্য কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের তুলনায় এই রোগের চিকিৎসায় বেশি সময় লাগে। সক্রিয় যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে রোগীকে কমপক্ষে ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। যদি বমি বমি বমি ভাব , ক্ষুধা হ্রাস, ত্বক হলুদ রঙের হয়ে যায় সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করতে হবে।

সুপ্ত টিবির জন্য তিনটি চিকিৎসার বিকল্প রয়েছে:


১. আইসোনিয়াজিড - এই অ্যান্টিবায়োটিক ৯ মাসের জন্য নির্ধারিত হয়।


২. রিফাম্পিন: এই ঔষধের কোর্স ৪ মাসের। 


৩.আইসোনিয়াজিড এবং রাইফাপেন্টিন: এই দুটি ঔষধ সক্রিয় টিবির জন্য ৬-৯ মাসের জন্য নির্ধারিত হয়। 


এছাড়াও চারটি সাধারণ ঔষধের মধ্যে রয়েছে:


১.ইথাম্বুটল


২.আইসোনিয়াজিড


৩.পাইরাজিনামাইড


৪.রিফাম্পিন


ডাক্তার দ্বারা নির্ধারিত ঔষধের সম্পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোন ব্যক্তি অল্প দিনেই চিকিৎসা বন্ধ করে দেয় তাহলে টিবির ব্যাকটেরিয়াগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই সঠিক ভাবে যক্ষ্মার চিকিৎসা করা উচিত। 


Share

You May Like

Cloud categories

epilepsy old age plaque psoriasis sneezing weight loss abortion generalized anxiety disorder allergic contact dermatitis throat infections bladder upper respiratory tract indigestion herpes simplex virus anxiety urinary tract infection psoriatic arthritis premenstrual dysphoric disorder irritable bowel syndrome ovarian cancer back pain hirsutism low blood pressure liver cirrhosis neurosyphilis fever iron supplement spine seizures nervousness ear corn muscle spasm gastric problems sinusitis duodenal ulcer colon cancer

দিন দিন ডিপ্রেশন বেড়ে যাচ্ছে কি

বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা ডিপ্রেশন। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, এমনকী ন ...

1 Like

নাভির মধ্যে ৬৭ রকম ব্যাক্টিরিয়ার উপস্থিতি টের পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

অনেকেই আছেন যারা অন্তরঙ্গ মুহূর্তে নাভিতে জিভ দিয়ে থাকেন । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীরে ...

0 Like

কেন ডাক্তাররা সিজার করেন? জেনেনিন সিজার করার কারণ সমূহ

স্বাভাবিক ডেলিভারি ঝুঁকিপূর্ণ হলে মা ও শিশুর সুস্থতার স্বার্থে সিজার পদ্ধতিতে ডেলিভারির প্ ...

2 Like

আপনি কি অ্যালকোহল পান করেন ? কিছু বিষয় যেনে পান করুন

অ্যালকোহল এমন একটা পানীয় যা দেখলেই পান করতে মন চায়। আগের দিনে অ্যালকোহল জলের বিকল্প হিসেব ...

2 Like

গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করার পদ্ধতি

আজকাল নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে সিসি ক্যামেরা মানে গোপন ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আবার বেশ কিছ ...

2 Like

হটাত জ্বরে আক্রান্ত হলে করনীয়

জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। অনেক জ্বরেই কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। জ্বর হলে ...

1 Like

মাথায় উকুন হলে কি করবেন?

যার একবার হয়েছে সেই জানে এর কষ্ট। তাই তো সবাই বেঁচে বেঁচে থাকে উকুনের থেকে। কিন্তু তবু কি ...

0 Like

শীতকালে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ স্বাভাবিক ব্যাপার তবে যারা দীর্ঘদিন নাকের ড্রপ ব্যবহার করছেন তাদের কিছুটা সতর্ক হওয়া দরকার

কিছু কিছু নাকের ড্রপ আছে যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে স্যাল ...

2 Like