হটাত জ্বরে আক্রান্ত হলে করনীয়
জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। অনেক জ্বরেই কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। জ্বর হলে ...
Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.
Fahima Akter
Wednesday, August 04, 2021

অ্যান্টিবায়োটিক হলো এমন একটি উপাদান যা এক ব্যাকটেরিয়া থেকে সংগ্রহ করে অন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চিকিৎসক ও গবেষকরা অ্যান্টবায়োটিক সম্পর্কে বলছেন যে, অ্যান্টিবায়োটিক হচ্ছে মৃত্যুর ফাঁদ। যথাযথ চিকিৎসা তত্ত্বাবধান ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অনেক মানুষের জীবন হুমকির মুখে ফেলবে।
প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সাধারণত ফার্মেসীর লোকেরা অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করে থাকে। যে কোন সাধারণ রোগ যেমন- সর্দি, কাঁশি, অল্প জ্বর এসবের কারণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে মানুষকে অনেক সমস্যায় পরতে হয়। যার কারণে, গবেষকরা সরকারের প্রতি এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করতে এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এই ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার জন্য অনেক মানুষেরই মলত্যাগের সমস্যা দেখা দেয়। যার কারণে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি খেতে হবে। চিকিৎসকরা সাধারণত ব্যাকটেরিয়াঘাটিত রোগ মুক্ত করতেই অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকে।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই অনেকে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকেন। অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। কখন খেতে হবে, কিভাবে খেতে হবে, কেন খেতে হবে এগুলো পরামর্শ চিকিৎসকই দিয়ে থাকেন। অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া স্বাস্থ্যর জন্য মোটেই ভালো নয়। যার কারণে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। সাধারণত দিনে ২-৩ বার এটি খেতে হয়। তবে সব রোগের জন্য একই নিয়ম নয়। অনেক রোগের জন্য নিয়মিত একটা কোর্স রয়েছে। এটি খাওয়ার মাঝখানে যদি খাওয়া বাদ দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে শরীরের অনেক জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার জন্য কিছু নিয়ম মানতে হয়। সেগুলো হলো ;
১. প্রথমত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে উদাসীনতা দেখানো যাবে না। কেননা সঠিক নিয়ম না জেনে এটি খাওয়ার ফলে স্বাস্থ্যর জন্য হানিকর হতে পারে।
২. অ্যান্টিবায়োটিক অনেক পাওয়ার ফুল একটা ঔষধ। এটি খাওয়ার পর পর অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে, নয়তো শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
৩. অনেক মানুষ আছে যারা অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার জানে না। যার কারণে তারা নান রকম সমস্যা, যেমন- বমি, ডায়েরিয়া, মাথা ব্যাথা, শ্বাস-কষ্ট ইত্যাদি রোগের সম্মুখীন হয়ে থাকে।
৪. এটি খাওয়ার আগে এবং পরে অনেক পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়, তা না হলে শরীর অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
৫. ভরাপেটে এই ঔষধ খেতে হবে। খালি পেটে খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার একটা কোর্স থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেই কোর্স অবশ্যই শেষ করতে হবে।
প্রাণিসম্পদ, মাছ এবং কৃষির জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমস্ত অ্যান্টিবায়োটিকের অর্ধেক কৃষিতে ব্যবহৃত হয়, এবং তাদের ব্যাপক ব্যবহার ভোক্তাদের মধ্যে কিডনির সমস্যা বৃদ্ধি করেছে।
অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে যে শুধু শরীরের বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলে এটা নয়। শরীরে অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ফেলে। যার কারণে, চিকিৎসক এর সাথে পরামর্শ করে এটি খাওয়া প্রয়োজন।অন্যথায় অন্যান্য অনেক সমস্যার পাশাপাশি হজমেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, যৌনরোগ, গনোরিয়া সহ আরও কিছু চিকিৎসায় ওষুধ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। যদি অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যাপক ব্যবহার অব্যাহত থাকে, তবে শীঘ্রই গনোরিয়া সহ আরও কিছু রোগ অচিকিৎসাযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্য সেবা মহাপরিচালকের রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক ডা.সানিয়া তাহমিনা বলেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মৃত্যুর প্রধান কারণ হবে।
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ একটি ভীতিকর সম্ভাবনা। যদি আমরা এই ঔষুধ গুলির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধ করতে না পারি, আমরা একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকেই যাব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঔষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ফারুক বলেন, “অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা আছে। যদি এই নিয়মগুলি অনুসরণ করা না হয়, তাহলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, পুরোপুরি ডোজ শেষ না করা, নকল বা নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহার করা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ।
মানুষের শরীরে উপস্থিত মাইক্রোঅর্গানিজমদের মেরে ফেলতে অ্যান্টিবায়োটিক সহায়তা করে থাকে। শরীরে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দেখা দিলে চিকিৎসকরা এই ঔষধ খাওয়ার জন্য পেসক্রাইব করে থাকেন। অনেক রকম অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে পাওয়া যায়। যেমন- সেফালোক্সিন, টেট্রাসাইলিন, পেনিসেলিন, অ্যামোক্সোসিন ইত্যাদি। এই ওষুধের অপব্যবহারের ফলে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা, শারীরিক জটিলতা সহ মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ সহ এশিয়ার ১১ টি দেশে ক্রমবর্ধমান অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখা যাচ্ছে। এটি অস্ত্রোপচার, বা ক্যান্সারের চিকিৎসায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। WHO অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগের সময়ের সাথে তুলনা করেছে।
আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার খেয়ে থাকি সেগুলো থেকেও আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয়ে থাকে। যেমন-
১. গরু ও খাসির মাংস
২. দুধ জাতীয় খাবার
৩. মাছ
৪. মুরগির মাংস
৫. বিভিন্ন রকম শাক-সবজি
সবশেষে বলা যায় যে, অ্যান্টিবায়োটিক এমন একটি প্রাকৃতিক পদার্থ, যেটা অনুজীব ধ্বংসকারী, বৃদ্ধি ও প্রজননে বাধাদানকারী যেটা আবার অনুজীব নিঃসৃতও করে থাকে। ওষুধ হিসাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের আগে সাবধান থাকা খুবই জুরুরি।
SHARE THIS
Share
dehydration hirsutism genital herpes vomiting calcium deficiency infertility pyelonephritis nausea bone marrow transplantation gastric cancer diabetes thrush stroke atherosclerosis heart failure swine flu dermatitis obesity cervicitis hypothyroidism colon cancer muscle spasm contact dermatitis sinusitis epilepsy malaria calcium supplement joint pain hydration immunodeficiency hepatitis b measles gastroesophageal reflux disease (gerd) skin back pain abortion
জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। অনেক জ্বরেই কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। জ্বর হলে ...
1 Like
যার একবার হয়েছে সেই জানে এর কষ্ট। তাই তো সবাই বেঁচে বেঁচে থাকে উকুনের থেকে। কিন্তু তবু কি ...
0 Like
কিছু কিছু নাকের ড্রপ আছে যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে স্যাল ...
2 Like
বাজারে যেইসব কানের ড্রপ পাউয়া যায় ওইগুলার একটা কমন উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড। কিন ...
2 Like
বয়সের ছাপ একটা স্বাভাবিক ব্যপার। বয়স হলে এটা হবেই। তবে গবেষণায় দেখা গেছে ভাত বয়সের ছ ...
1 Like
১) মূত্রাশয় সময়মত খালি না করা২) পানি পান না করা৩) লবন বেশি খাওয়া৪) সাধারন সংক্রমনগুলি ঠিকভ ...
1 Like
দৈনিক ১টি আপেল খান। কোন ডাক্তার লাগবে না! দৈনিক ৫টি বাদা ...
0 Like
এডিস মশা বিশ্বের অনেক বিপদজনক প্রাণীর মধ্যে একটি। ডেঙ্গু এবং পীতজ্বর এডিস মশার কামড়ের মাধ্ ...
0 Like
New to Welfarebd? Sign up
Subscribe to our newsletter & stay updated
0