Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

যৌনাঙ্গে হারপিস

Fahima Akter Saturday, August 28, 2021


যৌনাঙ্গে হারপিস একটি যৌন সংক্রামিত রোগ, যা ফোস্কা এবং আলসারের মতো সমস্যা সৃষ্টি করে। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (এইচএসভি) দ্বারা সৃষ্ট। এইচএসভি মূলত দুই প্রকার। যেমন-


১. HSV 1 - এটি সাধারণত মুখে জ্বর এবং ফোস্কা সৃষ্টি করে। 


২. HSV 2 - যৌনাঙ্গে এবং মলদ্বারে সমস্যা সৃষ্টি করে। 


বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, HSV 1 এবং HSV 2 নিষ্ক্রিয় এবং নীরব থাকে। এগুলো কোন ধরনের উপসর্গ সৃষ্টি করে না। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষ ফোসকা এবং আলসারে আক্রান্ত হয়। আবার কখনো এটি থেকে শরীরে ঘা হতে পারে যেটা অনেক ব্যাথা করে। যে ব্যাক্তি একবার এইচএসভি রোগে সংক্রমিত হয়,সে আজীবন সংক্রমিত থাকে।



যৌনাঙ্গে হারপিসের কারণ ও লক্ষণ

যৌনাঙ্গে হারপিস HSV-1 এবং HSV-2 ভাইরাসের কারণে হতে পারে। যদিও এইচএসভি-২ যৌনাঙ্গে হারপিসের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এই ভাইরাসটি এক জনের ত্বকের সাথে আরেকজনের ত্বকের স্পর্শ করা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও পায়ূ মিলনের সময় যৌনাঙ্গের নিঃসরণের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।


হারপিসের প্রাদুর্ভাবের পর, ভাইরাসটি স্নায়ু দিয়ে প্রবেশ করে এবং শরীরের মধ্যে স্নায়ু টিস্যুতে অবস্থান করে থাকে। মানুষের নাক, যৌনাঙ্গ এবং মুখে থাকা শ্লেষ্মা ঝিল্লির মাধ্যমে হারপিস মানব দেহে প্রবেশ করে। একবার ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এটি স্নায়ু কোষের সাথে এমন ভাবে মিশে যায়, পরবর্তীতে চিকিৎসা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। HSV-1 এবং HSV-2 উভয় ধরনের ভাইরাস মানব দেহে সংক্রমিত হলে, মানুষের শরীর থেকে লালা, বীর্য এবং যোনি নিঃসরণ হতে থাকে। 


একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রায় ১৬শতাংশ মানুষেরই এই এইচএসভি রয়েছে। অনেক মানুষ আছে যে তারা জানেই না তাদের শরীরে হারপিস আছে। কেননা হারপিস রোগের কারণ, উপসর্গ এবং লক্ষণগুলি খুব হালকা হওয়ায় জন্য এটি শরীরে আছে কিনা বুঝা কঠিন। এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের যৌনাঙ্গে হারপিস রয়েছে কিনা এটা নিয়ে বিভ্রান্তিকর অবস্থার মধ্যে দিয়ে থাকেন।  


এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার পর, এটার লক্ষণগুলি বুঝতে ১২ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, এটার কোন উপসর্গ বা লক্ষন হালকা এবং নাও থাকতে পারে। 



যৌনাঙ্গে হারপিসের কিছু সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

১. প্রস্রাব করার সময় জ্বালা পোড়া অনুভব করা। বিশেষ করে যদি প্রস্রাব করার রাস্তায় হারপিসের ঘা হয়ে থাকে ।


২. যৌনাঙ্গে ব্যাথা এবং চুলকানি।


৩. যৌনাঙ্গে ছোট ছোট লাল বা ছোট সাদা ফোস্কা।


৪. ফোস্কা ফেটে যাওয়া, তরল পদার্থ বা এমনকি রক্তপাতের সাথে আলসার গঠন। আলসার প্রস্রাবের জন্য বেদনাদায়ক হতে পারে।


৫. আলসার সেরে গেলে ত্বক ক্রাস্ট হয়ে যাবে এবং স্ক্যাব তৈরি করবে।


৬. শ্রোণী অঞ্চল, গলা এবং বাহুর নীচের গ্রন্থি গুলো ফুলে যাওয়া। 


৭. ঠাণ্ডা, জ্বর এবং মাথাব্যাথা।


৮. ব্যাথা এবং ক্লান্ত বোধ করা।


এছাড়াও মানুষের শরীরের সংক্রমিত স্থানে ঘা দেখা দেবে। সংক্রমিত স্থানে ছোঁয়া বা আঁচড় দেওয়ার পরে যদি চোখ সহ শরীরের অন্য কোন স্থানে স্পর্শ করা হয় তাহলে সেগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। হারপিস পুরুষ এবং মহিলা উভয়েই নিতম্ব, উরু, মলদ্বার, মুখ এবং মূত্রনালীতে ঘা সৃষ্টি করতে পারে। সেইসাথে মহিলাদের যোনি অঞ্চল, বাহ্যিক যৌনাঙ্গ এবং জরায়ুতে ঘা সৃষ্টি করতে পারে। পুরুষদের লিঙ্গ এবং অণ্ডকোষের উপরেও ঘা হতে পারে।



যৌনাঙ্গে হারপিসের প্রতিরোধ

স্বামী বা স্ত্রী যারই হারপিস হোক না কেন, যৌন মিলনের সময় অবশ্যই কনডম ব্যবহার করতে হবে। কেননা কনডম ব্যবহার না করার ফলে এক জনের সংক্রমিত রোগ আরেকজনের দেহে ছড়িয়ে যেতে পারে। সঙ্গীর যৌনাঙ্গে বা অন্য কোথাও হারপিসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে যৌন মিলন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও আরো কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রয়েছে, যেমন- 


1. যৌন মিলনের আগে সঙ্গীকে তার যৌন ইতিহাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে নিতে হবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, একাধিক যৌন সঙ্গীর সাথে সহবাস করলে হারপিস ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 


2. যৌন সঙ্গীর সংখ্যা সীমিত করতে হবে। কারণ, জীবনে যত কম যৌন সঙ্গী থাকবে, হারপিস ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তত কম থাকবে। 


3.যোনীর কাছে ঘা হলে সঙ্গীর কাছে থেকে ওরাল সেক্স গ্রহণ করা যাবে না। হারপিস ওরাল সেক্সের মাধ্যমে যৌনাঙ্গে যেতে পারে।


4. মাতাল অবস্থায় সেক্স করা যাবে না। কেননা, মানুষ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিরাপদ যৌন অনুশীলনের বিষয়ে কম সতর্ক থাকে এবং পরে এটার জন্য অনুশোচনা করে।


5. নিজের এবং সঙ্গীর যৌনাঙ্গে হারপিসের জন্য পরীক্ষা করাতে হবে। কারণ, যে কেউ যৌনাঙ্গে হারপিসের ঝুঁকিতে থাকতে পারে। তাই নিজেকে এবং সঙ্গীকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরীক্ষা করানো উচিত। 



যৌনাঙ্গে হারপিসের চিকিৎসা

যৌনাঙ্গে হারপিসের কোন প্রতিকার নেই। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করলে এটার উপসর্গ কমিয়ে আনা যায়। অন্যদেরকেও এটার সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে বাঁচানো যায়। কনডম ব্যবহার করেও যৌনাঙ্গে হারপিসের বিস্তারও রোধ করা যায়। অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। ব্যাথা উপশম করতে এবং পুনরুদ্ধারের সময়কে সংক্ষিপ্ত করার জন্য প্রাথমিক লক্ষণগুলি দেখলেই ঔষধ খেতে হবে।হারপিসের কারণে যারা ঘন ঘন প্রাদুর্ভাব অনুভব করে তাদের প্রাদুর্ভাবের সংখ্যা কমাতে এবং এটি কম বেদনাদায়ক করার জন্য চিকিৎসক ঔষধ দিয়ে থাকেন। 



ঘরোয়া উপায়েও হারপিস কিছুটা প্রতিরোধ সম্ভব: 

১/ জলপাইয়ের তেল : জলপাইয়ের তেল ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলতে সহায়তা করে। এটিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সংক্রমন রোধ করতে সাহায্য করে। 


২/ আপেল সিডার ভিনেগার : আপেল সিডার ভিনেগার ব্যাকটেরিয়াদের দেহে ছড়ানো থেকে প্রতিরোধ করে। হারপিসের কারণে দেহের যেসব অংঙ্গে ব্যাথা বা ঘা হয়েছে অই সব স্থানে এই ভিনেগার লাগালে আরাম পাওয়া যায়। সেই সাথে পানির সাথে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়। 


৩/ চা গাছের তেল : চা গাছের তেল প্রাচীন কাল থেকেই রোগ সংক্রমনের ঔষধ হিসেবে কাজ করে আসছে। এটি ভাইরাল এবং ফাংগাল চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি ব্যবহার করলে হারপিসের ব্যাথা এবং অস্বস্থি থেকে আরাম পাওয়া যায়। 


৪/ যষ্টিমধুর শিকড় : অ্যান্টঅক্সিডেন্ট এবং ব্যাকটেরিয়া বিরোধীর বৈশিষ্ঠ্য যষ্টিমধুতে পাওয়া যায়। পানির সাথে যষ্টিমধু গুড়ো করে ব্যাথা যুক্ত স্থানে লাগিয়ে দিলে আরাম পাওয়া যায়। 


৫/ লেবুর সুগন্ধি নির্যাস : হারপিসের ব্যাথা প্রতিকার করতে এটি অনেক সুন্দর ভাবে কাজ করে। হারপিসের প্রাদুর্ভাব থেকে আরাম দিতে লেবুর সুগন্ধি নির্যাস অনেক উপকার করে থাকে। 


৬/ ঘৃতকুমারী জেল : ঘৃতকুমারী জেল ব্যাথা উপশম করতে সহায়তা করে থাকে। সেই সাথে এটি হারপিস সংক্রমন রোধ করতে সহায়তা করে এবং এটি ছড়ানো থেকে রোধ করে। 


যে ব্যক্তির হারপিস আছে তার গোসল করার জন্য হালকা ক্লিনজার এবং উষ্ণ গরম পানি ব্যবহার করা উচিত। হারপিসে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। আক্রান্ত স্থান আরামদায়ক রাখার জন্য ঢিলেঢালা ও সুতি কাপড় পরিধান করতে হবে । 



হারপিসের ঔষধ 

Abreva একটি ওভার-দ্য কাউন্টার ঔষধ যা ঠান্ডা ঘা দ্রুত নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। ভাল্ট্রেক্স একটি ঔষধ যা যৌনাঙ্গে হারপিসের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি প্রাদুর্ভাব বন্ধ করতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা কম থাকে। এমনকি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য যৌনাঙ্গের হারপিসের জন্য ঔষধ পাওয়া যায়। এই ঔষধ খেলে সন্তান প্রসবের সময় সন্তানের শরীর থেকে সংক্রমণ এড়ানো যায়। গর্ভবতী মহিলাকে প্রসবের তারিখের কাছাকাছি আসার সাথে সাথে ঔষধটি দেওয়া হয়। গর্ভবতী মহিলাদের অনেক সতর্কতার সাথে থাকা উচিত। কারণ হারপিস নবজাতকদের জন্য অনেক বিপজ্জনক হতে পারে। হারপিস ধরা পরার সাথে সাথে চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। 



Share

You May Like

Cloud categories

stroke prevention restlessness vaginal dryness fever osteoarthritis congestion gum disease skin gastric cancer migraine muscle spasm liver cirrhosis sunburn scratches hepatic encephalopathy lichen planus gas old age burning liver transplant carcinomas apathy heartburn fractures sore throat pyelonephritis ankylosing spondylitis vitamin-b plaque psoriasis vitamin a helicobacter pylori infection glaucoma contact dermatitis measles allergic rhinitis

দিন দিন ডিপ্রেশন বেড়ে যাচ্ছে কি

বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা ডিপ্রেশন। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, এমনকী ন ...

1 Like

নাভির মধ্যে ৬৭ রকম ব্যাক্টিরিয়ার উপস্থিতি টের পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

অনেকেই আছেন যারা অন্তরঙ্গ মুহূর্তে নাভিতে জিভ দিয়ে থাকেন । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীরে ...

0 Like

কেন ডাক্তাররা সিজার করেন? জেনেনিন সিজার করার কারণ সমূহ

স্বাভাবিক ডেলিভারি ঝুঁকিপূর্ণ হলে মা ও শিশুর সুস্থতার স্বার্থে সিজার পদ্ধতিতে ডেলিভারির প্ ...

2 Like

আপনি কি অ্যালকোহল পান করেন ? কিছু বিষয় যেনে পান করুন

অ্যালকোহল এমন একটা পানীয় যা দেখলেই পান করতে মন চায়। আগের দিনে অ্যালকোহল জলের বিকল্প হিসেব ...

2 Like

নাক বন্ধ হলে এন্টাজল দিলে কি ক্ষতি হয়?

 নাক বন্ধে নাকের ড্রপ ব্যবহারে কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?উত্তর: কিছু কিছু নাকের ...

0 Like

হটাত জ্বরে আক্রান্ত হলে করনীয়

জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। অনেক জ্বরেই কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। জ্বর হলে ...

1 Like

মাথায় উকুন হলে কি করবেন?

যার একবার হয়েছে সেই জানে এর কষ্ট। তাই তো সবাই বেঁচে বেঁচে থাকে উকুনের থেকে। কিন্তু তবু কি ...

0 Like

শীতকালে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ স্বাভাবিক ব্যাপার তবে যারা দীর্ঘদিন নাকের ড্রপ ব্যবহার করছেন তাদের কিছুটা সতর্ক হওয়া দরকার

কিছু কিছু নাকের ড্রপ আছে যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে স্যাল ...

2 Like