Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

খামির সংক্রমণ বা মহিলাদের যোনিতে থাকা খামির হটাত বৃদ্ধি পেলে কি হয়, এর লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

Fahima Akter Wednesday, September 15, 2021


যোনির খামির সংক্রমণ সাধারণত, মহিলাদের যোনিতে থাকা খামিরকে বুঝায় যা অল্প সংখ্যায় বিদ্যমান। কিন্তু সংক্রমণের সময়, যোনিতে খামির কোষের সংখ্যা খুব বেশি বৃদ্ধি পায়। খামির সংক্রমণ খুবই সাধারণ একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রায় ৪ জন মহিলার মধ্যে ৩ জনের জীবনে অন্তত একবার হলেও খামির সংক্রমণ প্রভাবিত করে থাকে। সংক্রমণের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে চুলকানি, যোনিতে জ্বালাপোড়া, অস্বাভাবিক স্রাব, প্রস্রাবের সময় বা সহবাসের সময় ব্যাথা। মাসিক চক্রের ঠিক আগের সপ্তাহ এই লক্ষণগুলি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।


যোনি খামির সংক্রমণের কারণগুলির মধ্যে রয়েছে যোনির খামির এবং ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ব্যাহত করা। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি। এছাড়াও এটি মাসিক, ডায়াবেটিস বা গর্ভাবস্থায় প্ররোচিত হতে পারে। এগুলি ছাড়াও, ডাউচ বা সুগন্ধযুক্ত যোনি স্প্রে ব্যবহার মহিলাদের যোনি খামির সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যদিও, যৌন সংক্রামিত কোন রোগ হিসাবে বিবেচিত হয় না। কারণ এটি যৌন নিষ্ক্রিয় মহিলাদের মধ্যেও হতে পারে। একজন মহিলা সংক্রামিত হলে একজন পুরুষের সংক্রমণ স্থানান্তর করতে পারে, যদি সে সংক্রামিত হয়। এই ক্ষেত্রে কোন পুরুষ যদি খামিরে আক্রান্ত হয় তাহলে তার পুরুষাঙ্গের ত্বকে জ্বালা হতে পারে।


যোনি খামিরের সংক্রমণ রোধ করার সর্বোত্তম উপায় হলো যোনির এবং এর আশেপাশে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা। যোনি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদিন গোসল করতে হবে। এছাড়াও, বায়ুযুক্ত এবং শুকনো অন্তর্বাস যোনিকে শ্বাস নিতে সাহায্য করে। খামির সংক্রমণ বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। তবে শরীরে থাকা ক্যানডিডা নামক ছএাকের কারণে বিভিন্ন রকমের অসুবিধা দেখা দেয়। 




খামির সংক্রমণের কারণ ও লক্ষণ

যোনিতে স্বাভাবিকভাবেই ইস্ট (ক্যান্ডিডা) এবং ব্যাকটেরিয়ার সুষম মিশ্রণ থাকে। ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে, কেউ ইয়েস্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক এবং স্টেরয়েড ব্যবহার থেকে শুরু করে গর্ভাবস্থা, মাসিক, ডায়াবেটিস এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এগুলো নানা রকম সমস্যার কারণ হতে পারে। যেসব ব্যক্তিদের ক্যান্সার, স্টেরয়েড বা এইডসের মতো রোগে রয়েছে তাদের খামির সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ যাদের শরীরে দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে তাদের শরীরে খামিরের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পায় । ক্যান্ডিডাল ইনফেকশন সারা শরীর জুড়ে হতে পারে এবং প্রাণঘাতী হতে পারে।



খামির সংক্রমনের অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:


১. হরমোন থেরাপি


২. কিছু যৌন ক্রিয়াকলাপ, বিশেষত সেগুলির মধ্যে রয়েছে মৌখিক-যৌনাঙ্গের যোগাযোগ।


৩. যোনিতে চুলকানি


৪. যোনিতে ব্যাথা


৫. সাদা চিজ স্রাব যা যোনি এবং আশেপাশের বাইরের টিস্যুগুলিকে চুলকায় এবং জ্বালাতন করে। 


৬. যৌন মিলনের সময় ব্যাথা


৭. প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া


৮. জিভে ঘন সাদা আবরণ




খামির সংক্রমনের প্রতিরোধ-

১/ পরিষ্কার, শুকনো এবং শ্বাস -প্রশ্বাসের অন্তর্বাস করতে হবে। 


২/ ভালো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন গোসল করতে হবে ।


৩/ নিজের অঞ্চলটি শুষ্ক রাখতে হবে। কারণ আর্দ্রতা ছত্রাকের বৃদ্ধি ঘটায়। সেই সাথে যোনি চুলকানি এবং গন্ধের দিকে পরিচালিত করে।


৪/ একটি ভালো পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য শরীর যেন ভালো পুষ্টি পায় সেইদিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে।  


৫/ যোনিতে ডাউচিং করা যাবে না। কারণ এটি যোনিতে ব্যাকটেরিয়ার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে। যোনি স্রাব সাধারণত বেশ অম্লীয়, যা ভালো ব্যাকটেরিয়া এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিককে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে দূরে রাখতে সক্ষম করে। এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য পরিবর্তন করলে প্রদাহ বা সংক্রমণ হতে পারে।


৬/ ক্রস ইনফেকশন রোধ করতে সেক্সের সময় কনডম ব্যবহার করতে হবে। 


৭/ আঁটসাঁট অন্তর্বাস পরা এড়িয়ে চলতে হবে।  


৮/ খুব গরম পানিতে গোসল করা এড়িয়ে চলতে হবে। 


৯/ ভেজা কাপড়ে বেশিক্ষন থাকা যাবে না।  


১০/ সম্ভব হলে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। 


১১/ ত্বকের হাইড্রেশন বজায় রাখতে কমপক্ষে সাত থেকে আট গ্লাস পানি পান করতে হবে। কারণ ঘামের কারণে ত্বক প্রচুর পানি হারিয়ে থাকে। 



খামির সংক্রমন থেকে দূরে থাকার জন্য ঘরোয়া কিছু প্রতিকার রয়েছে। যেমন- 


১/ নারকেল তেল : নারকেল তেলে অ্যান্টিফাঙ্গালের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। নারকেল তেল ক্যান্ডিডা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। সেইজন্য ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে নারকেল তেল ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। 


২/ আপেল সিডার ভিনেগার : ক্যান্ডিলা অ্যালবিকানগুলির বৃদ্ধিতে আপেল সিডার ভিনেগার বাধা সৃষ্টি করে। গোসলের পানিতে সামান্য পরিমান আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে গোসল করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। 


৩/ বোরিক অ্যাসিড : বোরিক অ্যাসিড অনেক শক্তিশালী একটা উপাদান। এটি শক্তিশালী হওয়ার কারণে হালকা ভাবে এটিকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যোনি সাপোজিটরি বোরিক অ্যাসিডে থাকার কারণে এটি খামির সংক্রামন প্রতিরোধে সহায়তা করে। 


৪/ রসুন : রসুনের তেল শরীরের জন্য খুবই উপকারী। রসুনের তেল অ্যান্টিফাঙ্গাল এজেন্ট নামে পরিচিত। খামির সংক্রামন হলে রসুনের তেল ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। 


৫/ ভিটামিন- সি : ভিটামিন-সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। ক্ষত সারাতে ভিটামিন- সি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খামিরের সংক্রামন প্রতিরোধ করতে ভিটামিন-সি লড়াই করে থাকে। যার কারণে নিয়মিত ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। 


৬/ দই : দই খামির সংক্রামন রোধ করার একটা উত্তম উপায়। দই খাওয়ার ফলে প্রবায়োটিক ক্যান্ডিডা অ্যালবিকানদের বৃদ্ধি দমন করতে সহায়তা করে। ঘন ঘন দই খেলেও খামির থেকে দূরে থাকা যায়। 




খামির সংক্রামনের চিকিৎসা

ছত্রাক বিরোধী ঔষধের সাহায্যে কয়েক দিনের মধ্যেই খামিরের সংক্রমণ সহজেই নিরাময় করা যায়। যে কেউ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কাউন্টারে ঔষধের দোকানে খামির সংক্রমণের জন্য ক্রিম পেতে পারেন। কিন্তু ঔষধের সমস্ত নির্দেশাবলী মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ইস্ট ইনফেকশনের সাথে ডিফ্লুকান বা ফ্লুকোনাজল নামক একক পিল দিয়েও চিকিৎসা করা যেতে পারে। যা একজন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখানোর পরেই ফার্মেসী থেকে পাওয়া যায় ।


মৌখিক বা যোনি সেক্স করা উচিত নয়। যৌন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই ভাবে যৌনতা না করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ এটি থেকে ঘর্ষণ জ্বালা সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তীতে এটি নিরাময় করা কঠিন হয়ে উঠে। খামিরের সংক্রমণ সত্যিই চুলকানি হতে পারে। কিন্তু স্ক্র্যাচ না করার চেষ্টা করতে হবে। কারণ স্ক্র্যাচিং জ্বালা আরও খারাপ করতে পারে। এমনকি এটি সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ফার্মেসীতে কিছু ওভার দ্যা কাউন্টার ক্রিম পাওয়া যায় যেগুলো ব্যবহার করে জ্বালা পোড়া কিছুটা শান্ত করা যায়। 



Share

You May Like

Cloud categories

stiff neck osteoarthritis allergic contact dermatitis runny nose aids anaphylaxis sle polycystic ovarian disease alcoholism antiseptic severe allergies down syndrome hives insomnia iron bacterial infections arthritis liver cirrhosis hepatitis a stomach cancer skin diseases nausea and vomiting burkitt's lymphoma diabetes bacterial vaginosis atherosclerosis angina cystic fibrosis low blood pressure infected wounds itching upper respiratory tract fibromyalgia spasm irritable bowel syndrome non-gonococcal urethritis

দিন দিন ডিপ্রেশন বেড়ে যাচ্ছে কি

বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা ডিপ্রেশন। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, এমনকী ন ...

1 Like

নাভির মধ্যে ৬৭ রকম ব্যাক্টিরিয়ার উপস্থিতি টের পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

অনেকেই আছেন যারা অন্তরঙ্গ মুহূর্তে নাভিতে জিভ দিয়ে থাকেন । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীরে ...

0 Like

কেন ডাক্তাররা সিজার করেন? জেনেনিন সিজার করার কারণ সমূহ

স্বাভাবিক ডেলিভারি ঝুঁকিপূর্ণ হলে মা ও শিশুর সুস্থতার স্বার্থে সিজার পদ্ধতিতে ডেলিভারির প্ ...

2 Like

আপনি কি অ্যালকোহল পান করেন ? কিছু বিষয় যেনে পান করুন

অ্যালকোহল এমন একটা পানীয় যা দেখলেই পান করতে মন চায়। আগের দিনে অ্যালকোহল জলের বিকল্প হিসেব ...

2 Like

প্লাস্টিকের চাল,দেখুন আমরা কি খাচ্ছি টাকা দিয়ে কিনে

প্লাস্টিকের চাল,দেখুন আমরা কি খাচ্ছি টাকা দিয়ে কিনে।যারা চাল কিনে খান তারা ভাত রান্না করা ...

1 Like

স্ত্রী সহবাসের সুন্নাত নিয়ম?

সহবাসের সঠিক নিয়ম হলো স্ত্রী নিচে থাকবে আর স্বামী ঠিক তার উপরি ভাবে থেকে সহবাস করবে। মহান ...

1 Like

মাসিক হবার কত দিন আগে বা পড়ে কনডম ছাড়া সেক্স করা নিরাপদ

মাসিকের সময়ে শারীরিক মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা থাকে না, তবে এই সময়ে শারীরিক মিলন থেকে ...

1 Like

মাথায় উকুন হলে কি করবেন?

যার একবার হয়েছে সেই জানে এর কষ্ট। তাই তো সবাই বেঁচে বেঁচে থাকে উকুনের থেকে। কিন্তু তবু কি ...

0 Like