Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

ইবোলা ভাইরাস কি? মানুষ কিভাবে এটি দ্বারা আক্রান্ত হয়, এর লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

Fahima Akter Wednesday, January 12, 2022


ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাস। এটি সুদান এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ১৯৭৬ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল। ইবোলা ভাইরাস ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে থাকার পরেও, সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪ সালের মার্চ মাসে। এই প্রাদুর্ভাব আগের প্রাদুর্ভাবের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী, মারাত্মক এবং ব্যাপক বলে প্রমাণিত হয়েছে।


ইবোলা ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার কারণে শরীরের ইমিউন সিস্টেম এবং অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে রক্ত ​​জমাট বাঁধার কোষের সংখ্যা কমে যায়। যার কারণে মানুষের মারাত্মক, অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাত হয়। হেমোরেজিক জ্বর ছিলো ইবোলা রোগের পূর্ব নাম। কিন্তু বর্তমান সময়ে হেমোরেজিক জ্বর এখন ইবোলা ভাইরাস নামে পরিচিত। যেসব ব্যক্তিরা ইবোলাতে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাদের মধ্যে ৯০% মানুষই মৃত্যুর দিকে ঢোলে পড়ে।




ইবোলা ভাইরাসের কারণ ও লক্ষণ

অনেকেই ধারণা করে থাকেন এই ইবোলা ভাইরাসটি বানরের থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যখন ইবোলা ভাইরাসে সংক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে কোন সুস্থ মানুষ আসে, তাহলে সেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়বে। সংক্রমনে আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, বুকের দুধ, বীর্য, মল-মুত্র, বমি ইত্যাদির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তির নাক, মুখ, চোখ, যৌনাঙ্গ, ক্ষত ইত্যাদি মাধ্যমেও ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সিরিঞ্জ, সুঁচ, কাপড় এগুলো মাধ্যমেও সুস্থ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে ৷ তবে মানুষের দেহে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে এই রোগ প্রকাশ পায় না। বরং এই ভাইরাসটি প্রকাশ পেতে ২-২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ইবোলা ভাইরাসকে Filoviridae ভাইরাস পরিবারের সদস্যও বলা হয়। 




ইবোলা ভাইরাসের অন্যতম কিছু লক্ষন হলো -

১. শরীর ব্যাথা 

২. শ্বাস কষ্ট 

৩. ঘন ঘন জ্বর আসা

৪. মাথা ব্যাথা

৫. ক্ষুধামন্দা 

৬. ঠান্ডা ও কাশি

৭. নাক, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্তক্ষরণ 

৮. পাতলা পায়খানা 

৯. কিডনি ও লিভারের কার্যকক্ষতা ধীরে ধীরে কমে যাওয়া। 

১০. শরীরের দুর্বলতা বেড়ে যাওয়া

১১. ইবোলা ভাইরাসের লক্ষন দেখা দেওয়ার সময় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগও দেখা দিয়ে থাকে। 

১২. পেট ব্যাথা

১৩. অবর্ণনীয় রক্তপাত এবং ক্ষত

১৪. পেশী সমতল হয়ে যাওয়া 

১৫. বমি বমি ভাব আসা 




ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধ

ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য চিকিৎসকরা রোগীদের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ টিকা যা ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ইবোলা প্রতিরোধ করতে পারে এমন অন্যান্য বেশ কিছু ব্যবস্থা রয়েছে যেমন- 


১/ ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। 


২/ আক্রান্ত ব্যক্তির জিনিসপত্রের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। 


৩/ যদি কোন ব্যক্তি এমন জায়গায় বাস করে, যেখানে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেশি, তবে সেই জায়গার মানুষ গুলোকে ঘন ঘন কাপড় এবং হাত স্যানিটাইজ করতে হবে।  


৪/ প্রক্রিয়াজাত না করা মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকার প্রতি সচেতন থাকতে হবে। 




ইবোলা ভাইরাসের রোগ নির্ণয়:

১. ফ্লোর, ম্যালেরিয়া এবং টাইফয়েড জ্বরের মতো অন্যান্য রোগের মতোই ইবোলার প্রাথমিক লক্ষণ।

২. রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ইবোলা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা যায়।

৩. শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা যা অস্বাভাবিকভাবে কম বা বেশি হয়ে থাকে। 

৪. প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায়। 

৫. লিভারের এনজাইম গুলির ধীরে ধীরে উন্নত হয়।

৬. জমাট বাঁধার ফ্যাক্টরের মাত্রা যা অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ে ।




ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসা

ইবোলা ভাইরাসের লক্ষন গুলো দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। একজন চিকিৎসক রক্ত ​​পরীক্ষা ছাড়াও রোগীর সমস্যা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়। যেহেতু ইবোলা এক্সপোজারের তিন সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। তাই যে কেউ তিন সপ্তাহের মতো ইনকিউবেশন পিরিয়ড অনুভব করতে পারে। ২১ দিনের পরে কোন উপসর্গ দেখা না গেলে ইবোলা বাতিল হয়ে যায়। এই সময়ে ইবোলা ভাইরাসের জন্য কোন প্রতিকার বা ভ্যাকসিন নেই। নীচে সহায়ক কিছু চিকিৎসা বেবস্থা দেয়া হল :


১. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ঔষধ 

২. শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখার চিকিৎসা। 

৩. অতিরিক্ত অক্সিজেন প্রয়োজনে, শিরায় এবং মৌখিক তরল ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধের জন্য এবং সহাবস্থানের সংক্রমণের চিকিৎসা। 


যেহেতু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই এই রোগ নির্নয় করা সহজ হয়। সেজন্য চিকিৎসক রোগীর কোথাও ভ্রমণের উপর নির্ভর করে এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ইবোলা ভাইরাসে নির্নয় করে দ্রুত চিকিৎসা করে থাকেন৷ ইবোলা ভাইরাস যেহেতু ভাইরাস জনিত রোগ সেজন্য এটার সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই৷ তবে প্রতিটি পর্যায়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা খুবই জরুরি। 


Share

You May Like

Cloud categories

generalized anxiety disorder congestion russell's viper and saw-scaled iron in old age hypotension sle pain and inflammation tic disorders colds surgery measles anxiety herpes simplex virus spasm cardiac arrest calcium supplement laryngitis calcium deficiency diarrhea prevention of tuberculosis strains helicobacter pylori infection pneumonia sleep disorder herpes simplex stomach cancer dermatitis seizures lung skin diseases anaphylaxis swine flu ankylosing spondylitis scabies anemia

দিন দিন ডিপ্রেশন বেড়ে যাচ্ছে কি

বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা ডিপ্রেশন। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, এমনকী ন ...

1 Like

কেন ডাক্তাররা সিজার করেন? জেনেনিন সিজার করার কারণ সমূহ

স্বাভাবিক ডেলিভারি ঝুঁকিপূর্ণ হলে মা ও শিশুর সুস্থতার স্বার্থে সিজার পদ্ধতিতে ডেলিভারির প্ ...

2 Like

আপনি কি অ্যালকোহল পান করেন ? কিছু বিষয় যেনে পান করুন

অ্যালকোহল এমন একটা পানীয় যা দেখলেই পান করতে মন চায়। আগের দিনে অ্যালকোহল জলের বিকল্প হিসেব ...

2 Like

নাক বন্ধ হলে এন্টাজল দিলে কি ক্ষতি হয়?

 নাক বন্ধে নাকের ড্রপ ব্যবহারে কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?উত্তর: কিছু কিছু নাকের ...

0 Like

গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করার পদ্ধতি

আজকাল নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে সিসি ক্যামেরা মানে গোপন ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আবার বেশ কিছ ...

2 Like

হটাত জ্বরে আক্রান্ত হলে করনীয়

জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। অনেক জ্বরেই কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। জ্বর হলে ...

1 Like

যে সব খাবার অল্প বয়সেই আপনাকে বিপাকে ফেলতেপারে

প্রাত্যহিক জীবনে কতো কিছুই না খাওয়া হয়। কিন্তু সবকিছু কি আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাওয়া যায়? ...

0 Like

ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিভাবে অ্যাসিডিটি থেকে রেহাই পাবেন

অ্যাসিডিটি মানেই পেটের সর্বনাশ! কখনও বুকজ্বালা, কখনও ঢেঁকুর আবার কখনও বায়ুর চাপ। এরপর তেলজ ...

0 Like