দিন দিন ডিপ্রেশন বেড়ে যাচ্ছে কি
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা ডিপ্রেশন। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, এমনকী ন ...
Fahima Akter
Wednesday, January 12, 2022

যে সকল ব্যক্তিদের রক্তচাপ ১৪০/৯০ এর চেয়ে বেশি হয়ে থাকে তাদেরকে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হিসেবে বিবেচিত করা হয়। উচ্চ রক্তচাপকে একটি দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থ অবস্থা হিসেবে ধরা হয়। উচ্চ রক্তচাপ শারীরিক অবস্থার অনেক ক্ষতি করে থাকে। যেসব ব্যক্তিদের নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে তাদের বিভিন্ন রকম ঝুঁকি রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন- হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ এমনকি স্ট্রোকের জন্যও দায়ী।
১.প্রাথমিক উচ্চ রক্তচাপ এবং
২. মাধ্যমিক উচ্চ রক্তচাপ।
উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষই প্রথম দিকে প্রাথমিক রক্তচাপে ভোগে থাকে৷ আর মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ মানুষ সেকেন্ডারি উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন। প্রাথমিক উচ্চ রক্তচাপ দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো-
১. জীবনধারা এবং
২. জেনেটিক কারণ।
উচ্চ পরিমাণে লবণ খাওয়া, তামাক, ধূমপান বা অতিরিক্ত অ্যালকোহলযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলেও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির অতিরিক্ত ব্যবহার, কিডনির ধমনী সংকীর্ণ এবং এন্ডোক্রাইন ডিজঅর্ডারের কারণে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন হতে পারে। এই ধরনের উচ্চ রক্তচাপ হঠাৎ করে দেখা দেয়। তাছাড়াও সেকেন্ডারি হাইপারটেনশনের জন্য দায়ী অন্যান্য কারণগুলি হলো-
১. অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া
২.থাইরয়েড
৩. অ্যালকোহলের অপব্যবহার এবং
৪. কোকেইনের মতো অবৈধ ঔষধ সেবন।
মানসিক চাপ এবং বিষণ্নতা উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। কিন্তু এর ফলে রক্তচাপ সাময়িক সময়ের জন্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপের কোন লক্ষণ বা উপসর্গ নাও থাকতে পারে। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তির মাথা ঘোরা অনুভব করতে পারে, মাথাব্যাথায় ভুগতে পারে, শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে পারে বা নাক থেকে রক্ত পড়তে পারে। এটি লক্ষ করা উচিত যে উচ্চ রক্তচাপ জীবন-হুমকির পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত এই লক্ষণগুলি উপস্থিত নাও হতে পারে।
বর্তমান সময়ে প্রতিটি জিনিসের সাথে ভেজাল দ্রব্য মিশ্রিত রয়েছে। যার কারণে প্রতিটি মানুষেরই দৈনন্দিন জীবন যাপনে কিছু পরিবর্তন আনা উচিত। জীবন যাপন সম্পর্কে সবাইকে অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের লক্ষন দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সেই সাথে খাদ্যের জটিলতা এড়িয়ে চলতে হবে।
প্রিহাইপারটেনশন: ১২০/১৩৯ - ৮০/৮৮ এর উপরে
পর্যায় ১. উচ্চ রক্তচাপ : ১৪০/১৫৯ - ৯০/৯৯ এর উপরে
পর্যায় ২. উচ্চ রক্তচাপ : ১৬০ বা তার উপরে ১০০ বা তার বেশি
পর্যায় ৩. স্বাভাবিক রক্তচাপ: ১২০ এর কম ৮০ এর উপরে
প্রতিটি মানুষের শরীরে রক্তচাপ সারা দিন পরিবর্তিত হয়। মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রক্তচাপ কমে যায় আর যখন জেগে থাকে তখন রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। ৯০ শতাংশ রোগীর মধ্যে হাইপারটেনশনের কোন কারণ জানা যায় না। যার ফলে সতর্ক হওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপের সঠিক কারণ জানা যায় না। যাইহোক, বেশ কয়েকটি জীবনধারা অভ্যাস রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপকে বাড়িয়ে তোলে। তাদের মধ্যে কিছু হলো :
১/ অতিরিক্ত সোডিয়াম: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দিনে ১৫০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ উচ্চ রক্তচাপ, কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে।
২/ বার্ধক্য: বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। যদি মানুষ একটি স্বাস্থ্যকর জীবন বজায় না রাখে, ধূমপান করে বা অতিরিক্ত পান না করে, চর্বিযুক্ত এবং চিনিযুক্ত খাবার খায়, তাহলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেওয়ার আশঙ্খা বেড়ে যাবে।
৩/ স্লিপ অ্যাপনিয়া: এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষ ঘুমানোর সময় অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রেস এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগ হয়। যাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে তাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৪/ ড্রাগ এবং অ্যালকোহল: ড্রাগ এবং অ্যালকোহলের ব্যবহার হার্ট এবং ধমনীতে চাপ সৃষ্টি করবে এবং তাদের ক্ষতি করবে। এটি উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। কোকেইন, অ্যাম্ফেটামাইনস এবং ক্রিস্টাল মেথামফেটামিনের মতো পদার্থগুলি মানুষের হৃদয়কে চাপ দেয়।
আরো কিছু সাধারণ কারণ হতে পারে। যেমন-
১. জিন গত
২. স্থূলতা
৩. থাইরয়েড ডিসঅর্ডার এবং
৪. অ্যাড্রিনাল ডিসঅর্ডার।
যেহেতু উচ্চ রক্তচাপের নিদিষ্ট কোন কারণ নেই। তাই অনেকে উচ্চ রক্তচাপকে উপসর্গের অনুপস্থিতির কারণে, এটিকে 'নীরব ঘাতক' নামেও পরিচিতি দিয়ে থাকেন।
উচ্চ রক্তচাপের তিনটি প্রধান বিভাগ রয়েছে:
১.প্রি-হাইপারটেনশন
২. হাইপারটেনশন স্টেজ ১ এবং
৩. হাইপারটেনশন স্টেজ ২।
১/ কিছু বিরল উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন মাথাব্যাথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং ছোট শ্বাস।
২/ গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, কিডনি ব্যর্থতা, ইরেকটাইল ডিসফাংশন এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস হতে পারে।
৩/ উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রোগীদের চোখে রক্তের দাগও একটি অস্বাভাবিক লক্ষণ।
৪/ মাথা ঘোরা উচ্চ রক্তচাপের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিন্তু মাথা ঘোরা উচ্চ রক্তচাপের কারণে হয় না। তবে হঠাৎ মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো এবং হাঁটতে সমস্যা স্ট্রোকের সতর্ক সংকেত হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের জন্য একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ।
৫/ অবস্থা খুব গুরুতর না হওয়া পর্যন্ত অনেকে উচ্চ রক্তচাপেকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের যত্ন দেন না। যার কারণে এই অবস্থাকে বলা ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনন । ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশনে, ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (নিম্ন সংখ্যা) ১৪০ মিমি এইচজি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
৬/ উচ্চ রক্তচাপের কারণে পেরিফেরাল ধমনী রোগ হতে পারে। যার ফলে হাঁটার সময় পায়ে ব্যাথা করে। পেরিফেরাল ধমনী রোগ এমন একটি অবস্থা যেখানে ধমনীতে প্লাক তৈরি হয় এবং ফুসফুসে রক্ত প্রবাহকে প্রভাবিত করে। যার কারণে অসাড়তা, ব্যাথা বা পা ভারী হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
৭/ গর্ভাবস্থায় যে হাইপারটেনশন হয় তা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যার মধ্যে ৪০ বছরের বেশি বয়স, আইভিএফ বা গর্ভাবস্থার অন্যান্য সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভে একাধিক বাচ্চা (যমজ বা তার বেশি), ধূমপান এবং অ্যালকোহল রয়েছে।
৮/ যদি গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পরেও উচ্চ রক্তচাপ থাকে তবে প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ শিশুর অকাল জন্মের কারণ হতে পারে এবং সিজারিয়ান প্রসবের প্রয়োজন হতে পারে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের উপসর্গের অনুপস্থিতির কারণে, উচ্চ রক্তচাপ প্রায়ই অজানা হয়ে থাকে। নিয়মিত বিরতিতে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। যত তাড়াতাড়ি এটি ধরা হবে, এটি নিয়ন্ত্রণ করা তত সহজ হবে। নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল দিতে হবে।যেমন -
১/ লবণ : চিকিৎসক উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর খাবারের চার্টে লবণ কমাতে বলে থাকেন। কেননা লবণে সোডিয়াম থাকে যা রক্তচাপের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য, উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়। তাই এটি পরিহার করতে হবে।
২/ ডায়েট : সুষম খাদ্য মানুষের রোগের আধিক্য রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য রক্তচাপের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যেখানে চর্বি, কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাদ্য উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করতে পারে।
৩/ ব্যায়াম : উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম ৩০ মিনিটের ব্যায়াম বাধ্যতামূলক। যাইহোক, তাদের কোন শুরু করার আগে তাদের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
৪/ ধূমপান এবং অ্যালকোহল ত্যাগ করা : অ্যালকোহলের পরিমিত ব্যবহার রক্তচাপের মাত্রা প্রভাবিত করতে পারে না। কিন্তু ধূমপান সরাসরি উচ্চ রক্তচাপের সাথে যুক্ত। অ্যালকোহল গ্রহণের বিষয়ে রোগীর যদি কোনও উদ্বেগ থাকে তবে একজন ভাল ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে।
৫/ স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা : উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে ওজন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি রোগী স্থূল হন তাহলে তার উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। স্থূলতা হলো অধিক ক্যালোরি গ্রহণ এবং কম শারীরিক ক্রিয়াকলাপের ফল। সুতরাং, একটি স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখার জন্য, প্রতিটি মানুষকে ওজন কমানোর চেষ্টা করা উচিত।
৬/ স্ট্রেস কমানো : স্ট্রেস উচ্চ রক্তচাপের কারণে হতে পারে। যেসব ব্যক্তিদের অতিরিক্ত স্ট্রেস হয়ে থাকে তাদের যদি পর্যাপ্ত যত্ন না নেওয়া হয় তবে এটি উচ্চ রক্তচাপের স্থায়ী সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। যোগ, ধ্যান এবং জীবনের প্রতি আশাবাদী সহ অনেক উপায়ে মানসিক চাপ কমানো যায়।
৭/ ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। মাছের তেল এবং রসুনও উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। প্রতিদিন কম লবণ দিয়ে তাজা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। দৈনন্দিন রুটিনে কিছু শারীরিক ক্রিয়াকলাপ অন্তর্ভুক্ত এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিজের ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। কখনও কখনও জীবনধারাতে পরিবর্তন করা যথেষ্ট নয়। অনেক ব্যক্তিকে এর সাথে ঔষধ খাওয়ার দরকার হয়। ঔষধ ব্যক্তির বয়স, রক্তচাপের অবস্থা এবং অন্যান্য চিকিৎসা অবস্থার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়।
যদি রক্তচাপ সামান্য বেড়ে যায় তাহলে ডাক্তার কিছু জীবনধারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
মাঝারি স্পাইকের ক্ষেত্রে, ১০ বছরের মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার রোগ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং এটি যাতে না ঘটে তার জন্য ডাক্তার কিছু ঔষধের সাথে ব্যক্তির জীবনধারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন । যদি রক্তচাপের মাত্রা 180/120 mm Hg বা তার উপরে পৌঁছায়, এটিকে সেভার কেস বলে। ঔষধের ডোজের ধরনে অবিলম্বে পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে।
নিজের রক্তচাপ পরীক্ষা করার জন্য নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। উচ্চ রক্তচাপের সময় নির্ধারিত কয়েকটি ঔষধ নিম্নরূপ:
১. থিয়াজাইড মূত্রবর্ধক
২. এঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম (এসিই) ইনহিবিটারস
৩. অ্যাঞ্জিওটেনসিন- রিসেপ্টর ব্লকার (এআরবি)
৪. ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার
তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ সেবন করা যাবে না। সেই সাথে জীবন যাপনের এবং খাদ্যভাসের পরিবর্তন করা যাবে না।
red eye severe diarrhea prevention of tuberculosis migraine calcium supplement ebola skin grafts pneumonia russell's viper and saw-scaled skin fractures insect bites breast bacterial infections pyelonephritis iron supplement swine flu cold lung cancer fever reduces wrinkles tension cough nervousness gastric ulcer throat infections first psoriatic arthritis spine stroke prevention back pain bradycardia dizziness seizures hydration pancreatic cancer
0