Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

নিম্ন রক্তচাপ কি, কেন হয় এবং এর প্রতিকার ও চিকিৎসা

Fahima Akter Wednesday, September 15, 2021


এটি এমন একটি অবস্থা যার ফলে ধমনীতে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। কিছু ক্ষেত্রে, রক্তচাপ এত কম হয়ে যায় যে এটি শরীরের সমস্ত অঙ্গগুলিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। 


মানুষ সাধারণত যেটা দিয়ে রক্তচাপ নির্নয় করে তার একটি হলো সিস্টোলিক, আরেকটি হলো ডায়াস্টোলিক। সিস্টোলিকের চাপ ৯০ মিমি পারদ এবং ডায়াস্টোলিকের চাপ ৬০ মিমি পারদের কম হলে সেই অবস্থাকে নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়। নিম্ন রক্তচাপের অনেক তারতম্য দেখা দেয়।যেমন - ব্যায়াম, ঘুম, পানিশূন্যতা, হাটাহাটি করা ইত্যাদির সাথে নিম্ন রক্তচাপের সম্পর্ক রয়েছে।  


সাধারণত সুস্থ মানুষের মধ্যে কোন উপসর্গ ছাড়াই নিম্ন রক্তচাপ দেখা দেয়। কিন্তু যদি এই উপসর্গ হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে অপর্যাপ্ত রক্ত ​​প্রবাহের ইঙ্গিত দেখায়, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা করা প্রয়োজন। যদি হঠাৎ করে রক্তচাপ কমে যায় তাহলে বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। যখন কোন ব্যক্তি দীর্ঘসময় শুয়ে থাকার পর হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায় তখন নিম্ন রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। এই ধরনের নিম্ন রক্তচাপকে পোস্টুরাল হাইপোটেনশন বা অরথোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশনও বলা হয়। মানুষের শরীর সাধারনত দ্রুত হৃদস্পন্দনে বার্তা পাঠিয়ে এবং রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ করে থাকে । কিন্তু যদি এটি না হয় তাহলে পোস্টুরাল হাইপোটেনশন সৃষ্টি করে এবং মানুষ যার কারণে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। এই ধরনের নিম্ন রক্তচাপকে স্নায়ুর মধ্যস্থতা হাইপোটেনশন বলা হয়।সাধারণত বয়সের সাথে সাথে, নিম্ন এবং উচ্চ রক্তচাপ উভয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।




নিম্ন রক্তচাপের কারণ ও লক্ষণ

মানুষের শরীরের রক্তচাপ সারা দিন পরিবর্তিত হয়। রক্তচাপ ওঠানামার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমন- শরীরের অবস্থান, চাপের মাত্রা, শারীরিক অবস্থা, ঔষধ , খাওয়া -দাওয়ার অভ্যাস নিম্ন রক্তচাপের জন্য দায়ী । মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকেন তখন রক্তচাপ সাধারণত হ্রাস পায় এবং যখন জেগে ওঠেন তখন এটি তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়।



নিম্ন রক্তচাপের কিছু সাধারণ কারণ হল:

১/ পানিশূন্যতা: শরীরে অপর্যাপ্ত পানি দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরাতে পারে এবং এইভাবে রক্তচাপের মাত্রা হ্রাস পেতে পারে।


২/ কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা: কিছু হৃদরোগের কারণে নিম্ন রক্তচাপও হতে পারে। কিছু পরিস্থিতিতে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। যেমন -কম হার্ট রেট (ব্র্যাডিকার্ডিয়া), হার্ট ভালভ সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওর হতে পারে।


৩/ গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় রক্তচাপের মাত্রা কমে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় অভ্যন্তরীণ শারীরিক পরিবর্তনের কারণে রক্তচাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এই অবস্থা সাধারণত স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। সন্তানের জন্মের পর রক্তচাপ আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।


৪/ দৌড়বিদ, অ্যাথলেট, যেসব মানুষ অতিরিক্ত পরিশ্রম করে তাদের নিম্ন রক্তচাপ হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। 


৫/ রক্তের ক্ষতি: রক্তের ক্ষয় বা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের কারণে বড় আঘাতের ক্ষেত্রে, কেউ নিম্ন রক্তচাপ অনুভব করতে পারে।


৬/ এন্ডোক্রাইন সমস্যা: থাইরয়েডের অবস্থা, রক্তে শর্করার মাত্রা কম এবং কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস নিম্ন রক্তচাপের জন্য দায়ী।


৭/ সংক্রমণ: এটি সাধারণত সেপটিসেমিয়ার মতো মারাত্মক সংক্রমণের ক্ষেত্রে ঘটে এবং এটি জীবন-হুমকির কারণ হতে পারে। যাকে সেপটিক শকও বলা হয়।


৮/ পুষ্টির অভাব: ভিটামিন বি১২ এবং ফোলেটেরের অভাব নিম্ন রক্তচাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই পুষ্টিগুলি লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য অপরিহার্য এবং তাদের অভাব রক্তচাপের মাত্রা হ্রাস করতে পারে।


৯/ এলার্জি প্রতিক্রিয়া: অ্যানাফিল্যাক্সিসের মতো মারাত্মক এলার্জি প্রতিক্রিয়া শ্বাসকষ্ট, আমবাত, চুলকানি এবং গলা ফুলে যাওয়ার মতো স্বাস্থ্যের অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে নিম্ন রক্তচাপও হতে পারে।


১০/ কম লবণ গ্রহণ: সোডিয়াম একটি অপরিহার্য ইলেক্ট্রোলাইট যা কোষে এবং দেহের চারপাশে পানি বজায় রাখতে সাহায্য করে। সোডিয়ামের অপর্যাপ্ত ব্যবহারে কম রক্তচাপ হতে পারে। কারণ এটি রক্তচাপের মাত্রা ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু খাবারে লবণের পরিমাণ বাড়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুতে হবে। 


১১/ বয়স্ক ব্যক্তিদের নিম্ন রক্তচাপ হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। এটার অন্যতম কারণ হলো নানা রকম ঔষধের ব্যবহার। 




নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণগুলি নিম্নরূপ:

১. সিনকোপের ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। 


২. বমি বমি ভাব


৩. মনোযোগের অভাব


৪. ক্লান্তি


৫. চোখে ঝাপসা দেখা 


৬. হালকা মাথা ঘোরা



যাইহোক, চরম হাইপোটেনশনের ফলে জীবন হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। এই অবস্থার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

১. দ্রুত পালস হার


২. দুর্বলতা


৩. বিভ্রান্তির অনুভূতি, যা প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি ঘটে।


৪. গায়ের রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া। 


৫. দ্রুত, অগভীর শ্বাস


এই রকম অবস্থার তৈরি হলে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। যদি কোন ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় ভুগে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও, চিকিৎসা গ্রহণের আগে কোন ব্যক্তির কেমন ধরনের নিম্ন রক্তচাপের লক্ষন দেখা দেয় সেটা অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে। কারণ এটি চিকিৎসায় ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করে। 




নিম্ন রক্তচাপ প্রতিরোধ

দীর্ঘস্থায়ী নিম্ন রক্তচাপ জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের সাথে চিকিৎসা করা যেতে পারে। যেমন-


১. প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে। 


২. অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।


৩. গরম আবহাওয়া এবং অসুস্থতার সময়, পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে। 


৪. একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নেওয়া পর্যন্ত ওভার-দ্য কাউন্টার ঔষধ এড়িয়ে চলতে হবে ।


৫. স্বাভাবিক রক্ত ​​প্রবাহকে উন্নত করতে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। 


৬. ঘুম থেকে উঠার সময় সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়াও, যদি কোন ব্যক্তি নিম্ন রক্তচাপের সম্মুখীন হয়, তাহলে দাঁড়ানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে। 


৭. রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে, দাঁড়ানোর আগে কয়েকবার পা এবং গোড়ালি পাম্প করতে হবে। ভারী জিনিস উত্তোলন এড়িয়ে চলতে হবে ।


৮. লবণযুক্ত খাবার একটু বেশি পরিমানে খেতে হবে। 


৯. গরম পানি দীর্ঘ সময় ধরে সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন- গরম ঝরনা এবং স্পা।


১০. নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা এড়ানোর জন্য এবং খাবারের পরে মাথা ঘোরা পর্ব কমিয়ে আনতে, ছোট, বেশি ঘন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।


১১. কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কমিয়ে দিতে হবে।


১২. খাওয়ার পর বিশ্রাম নিতে হবে। 




নিম্ন রক্তচাপের চিকিৎসা

নিম্ন রক্তচাপের অবস্থা সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার মতো দৃশ্যমান লক্ষণ প্রকাশ করে না। অতএব, এই অবস্থায় চিকিৎসার কোন নির্ধারিত কোর্স নেই। যদি রোগী শুধুমাত্র হালকা উপসর্গ বা লক্ষণ প্রদর্শন করে তাহলে কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসার পরিকল্পনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রক্তচাপের মাত্রা বাড়ানো এবং আবার রক্ত ​​পাম্প করা। 


মানুষের অবস্থার উন্নতি করতে বাড়িতেই জীবনধারার কিছু পরিবর্তন করে আনা যেতে পারে। যেমন- খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ বাড়ানো (লবণের পরিমাণ বাড়ানো), পানির পরিমাণ বাড়ানো । একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ এবং কম কার্ব ডায়েট খাওয়া যা মাথা ঘোরা হওয়ার লক্ষণগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে । এছাড়াও চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। যেটা রক্তের পরিমাণ উন্নত করে এবং রক্ত নালীগুলিকে সংকুচিত করে, সেইসাথে রক্তচাপ উন্নত করতে সহায়তা করে। 


Share

You May Like

Cloud categories

cold sores pain ankylosing spondylitis skin rash pid iron supplement dry mouth oral hygiene coronary artery trachoma acute myocardial infarction constipation insomnia herpes simplex virus hiv plaque healthy skin herpes simplex typhoid abdominal pain gum disease lichen planus mumps sleep disorder streptococcus erectile dysfunction calcium and vitamin d supplement tetanus urethritis lichen severe diarrhea irritable bowel syndrome mania abortion peptic ulcer fever

হোমিওপ্যাথি কিভাবে কাজ করে ? চিকিৎসা নেয়ার আগে কিছু পরামর্শ

হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান । মনেরাখতে হবে যে, রোগের লক্ষণগুলোই রোগের প ...

0 Like

হোমিওপ্যাথি কিভাবে কাজ করে ?, চিকিৎসা নেয়ার আগে কিছু পরামর্শ

হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান । মনেরাখতে হবে যে,রোগের লক্ষণগুলোই রোগের পর ...

0 Like

স্ত্রী সহবাসের সুন্নাত নিয়ম?

সহবাসের সঠিক নিয়ম হলো স্ত্রী নিচে থাকবে আর স্বামী ঠিক তার উপরি ভাবে থেকে সহবাস করবে। মহান ...

1 Like

মাসিক হবার কত দিন আগে বা পড়ে কনডম ছাড়া সেক্স করা নিরাপদ

মাসিকের সময়ে শারীরিক মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা থাকে না, তবে এই সময়ে শারীরিক মিলন থেকে ...

1 Like

কোমর ব্যথার কারণ ও দূর করার উপায়

কোমর ব্যথার সমস্যায় কমবেশি সকলেই ভুগে থাকেন, আসুন জেনে নিই কোমর ব্যথার কারণ ও দূর করার উপা ...

0 Like

হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড কি সত্যি কানের মল দুর করতে পারে?

বাজারে যেইসব কানের ড্রপ পাউয়া যায় ওইগুলার একটা কমন উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড। কিন ...

2 Like

যে অভ্যাসগুলি কিডনীর ক্ষতি করে

১) মূত্রাশয় সময়মত খালি না করা২) পানি পান না করা৩) লবন বেশি খাওয়া৪) সাধারন সংক্রমনগুলি ঠিকভ ...

1 Like

দৈনিক যে সমস্ত কাজ আমাদের ভাল রাখতে পারে

দৈনিক ১টি আপেল খান।     কোন ডাক্তার লাগবে না! দৈনিক ৫টি বাদা ...

0 Like