Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

দৃষ্টিশক্তির জটিলতা বা মায়োপিয়ার লক্ষণ সমূহ ও এর প্রতিকার

Fahima Akter Wednesday, September 15, 2021


দৃষ্টিশক্তি বা মায়োপিয়া এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষ তার কাছাকাছি থাকা বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখতে পায় অথচ দূরে থাকা বস্তুগুলি অস্পষ্ট ভাবে দেখে। দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে বিকশিত হতে পারে বা কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত হতে পারে। এটি প্রায়ই শৈশব এবং কৈশোরে অনেক কারণেই খারাপ অবস্থার দিকে চলে যায়।


দৃষ্টিশক্তি নির্ণয় করা কঠিন নয়। কারণ এটি চোখের প্রাথমিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়। চোখের চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স দিয়ে দৃষ্টিশক্তি সংশোধন করা যায়। আরেকটি বিকল্প হচ্ছে চোখে লাসিক সার্জারি করা। 

যারা দৃষ্টিশক্তিহীন তাদের স্কুলে স্পষ্টভাবে ব্ল্যাকবোর্ড দেখতে অসুবিধা হতে পারে। 


চোখের বল বেশি লম্বা হলে বা কর্নিয়া খুব বাঁকা হলে সাধারণত দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে চোখে প্রবেশ করা আলো সঠিকভাবে ফোকাস করা হয় না। যাতে দূরবর্তী বস্তুগুলি অস্পষ্ট দেখা যায়। এই অবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সত্ত্বেও যারা পড়ার, কম্পিউটারে কাজ করার, বা অন্যান্য চাক্ষুষ কাজ করার জন্য যথেষ্ট সময় ব্যয় করে তাদের মায়োপিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।


দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো- দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, মাথাব্যাথা, মাথা চক্কর দেওয়া, চোখের চাপ বেড়ে যাওয়া , চোখের ক্লান্তি বা দূর থেকে অনেক কিছু দেখতে না পারার মতো অন্যান্য উপসর্গ রয়েছে। দৃষ্টিশক্তি অনেক জটিলতার সাথে যুক্ত হতে পারে, এর মধ্যে রয়েছে:


১/ জীবনযাত্রার মান হ্রাস: এর অর্থ হল অনেক মানুষই কিছু কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম হবে না। হতে পারে দৈনন্দিন কাজগুলো করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বাধা।


২/ আইস্ট্রেন: দৃষ্টিহীন কোন ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট বোর্ড বা সাইন পড়তে বা দেখার জন্য চোখে চক্কর দিয়ে চোখের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। 


৩/ এছাড়াও চোখের অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- গ্লুকোমা, রেটিনা বিচ্ছিন্নতা এবং ছানি হতে পারে। 




দৃষ্টিশক্তি কমার কারণ ও লক্ষণ

এশিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই মায়োপিয়ায় ভোগে। ভিজ্যুয়াল ডেভেলপমেন্টের সময় চোখের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মায়োপসে এটি খুব লম্বা হয় এবং চোখের ভেতরে প্রবেশ করা আলো তার উপর নয় বরং রেটিনার সামনে থাকে। এটি একটি অস্পষ্ট ইমেজ ফলাফল। জেনেটিক কারণে কিছু কিছু ব্যক্তির মধ্যে মায়োপিয়ার বিকাশের ঝুঁকি ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে মায়োপিয়া চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স দিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। 


গবেষকরা বলেছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে স্মার্টফোনে কাজ করার সময় ব্যবহারকারীরা, বিশেষ করে যুবকরা, এটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ধরে রাখে ১০ থেকে ১২ ইঞ্চির মধ্যে। এটি অতিরিক্ত হলে মায়োপিয়া হতে পারে। এই সমস্যাগুলি দৈনন্দিন ভিত্তিতে কম্পিউটারের ব্যবহার দ্বারা আরও জটিল হয়ে ওঠে।



অদূরদর্শিতার কিছু লক্ষণগুলি হলো -


১. দূরবর্তী বস্তুর দিকে তাকানোর সময় অস্পষ্ট দেখা। 


২. স্পষ্টভাবে দেখার জন্য চোখ আংশিকভাবে বন্ধ করা। 


৩. চোখের চাপের কারণে ঘন ঘন মাথাব্যাথা হওয়া। 


৪. রাতে গাড়ি চালানোর সময় অসুবিধা হওয়া, যাকে নাইট মায়োপিয়াও বলা হয়। 


৫. টেলিভিশন, স্ক্রিন বা ব্ল্যাকবোর্ডের কাছাকাছি বসতে হয়, কেননা এগুলো দূরে থেকে দেখতে গেলে সব কিছু ঝাপসা দেখায়। 


৬. চোখের পলক ও অতিরিক্ত ঘষা।


৭. বই পড়ার সময় খুব কাছ থেকে বই ধরে রাখা। 


৮. চোখে সব সময় ক্লান্ত এবং চাপ অনুভব করা।


৯. যখন কয়েক ফুটের বেশি দূরে দেখার চেষ্টা করা হয় তখন চোখে ক্লান্তি অনুভব করা। 


১০. দূরবর্তী বস্তুর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করার সময় চোখের উপর চাপ দেওয়া। 


১১. ডায়াবেটিসের মতো কিছু শর্ত দূরদর্শিতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। যা মানুষের অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। 




দৃষ্টিশক্তি কমার প্রতিরোধ

বর্তমানে স্মার্টফোন মানুষের কাছে এতটাই সর্বজনীন হয়ে উঠেছে যে স্মার্টফোন ছাড়া কেউই এখন চলতেই পারে না। তবে অতিরিক্ত স্মার্টফোন, কম্পিউটার এসব ব্যবহারের মানুষেরা নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সারাদিন এসব ডিভাইস গুলোতে তাকিয়ে থাকার কারণে দৃষ্টিশক্তি লোপ পাচ্ছে। দীর্ঘসময় কম্পিউটার ব্যবহার করার ফলে চোখে অনেক ক্লান্তি বোধ করে। এতে করে চোখ ফুলে যাওয়া, চোখে লালচে ভাব আসা ইত্যাদি রোগ দেখা দেয়। 

যারা ব্যাপকভাবে সেলফোন ব্যবহার করে তাদের উচিত এর ব্যবহার কমানো। নিয়মিত ব্যবহারের মাঝখানে অবশ্যই বিরতি নিতে হবে। সেই সাথে নিজেদেরকে ফোন থেকে অবশ্যই দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়াও, চোখকে শুকিয়ে যাওয়া রোধ করার জন্য অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। একটি সাদা পটভূমিতে কালো অক্ষর পড়লে চোখের চাপ কমে যায় ।




দৃষ্টিশক্তি( মায়োপিয়া) থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে হলে যেসব করতে হবে-

১/ মায়োপিয়া প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হল তাড়াতাড়ি দৃষ্টিশক্তি পর্যবেক্ষণ করা। 


২/ প্লাস পাওয়ার চশমা ব্যবহার করে মায়োপিয়া প্রতিরোধ করা যায়।


৩/ দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিন টাইমের জন্য নির্ধারিত পড়ার চশমা ব্যবহার করলে মাংসপেশি শিথিল হবে এবং এইভাবে মায়োপিয়ার ঝুঁকি প্রতিরোধ করা যাবে। 


৪/ ক্লোজ-আপ কাজে নিযুক্ত থাকার সময়, যতটা সম্ভব বস্তুটিকে ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে ।


৫/ স্ক্রিন টাইমের পরিমাণ কমানো এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ একটি খাদ্য গ্রহণের ফলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। 


৬/ চশমা ছাড়াও, লেন্স এবং চোখের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও মায়োপিয়া সংশোধন করা যায়।


৭/ কিছু চাক্ষুষ স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থা প্রায়ই সুপারিশ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে- 

ক. পর্দায় কাজ করার সময় প্রতি ৩০ মিনিটে বিরতি নেওয়া। 


খ. বই পড়ার সময় সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা।


গ. পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা রাখা। 


ঘ. চাক্ষুষ কাজ একটি শিথিল সোজা ভঙ্গিতে করা উচিত। 


ঙ. টেলিভিশন দেখার সময় কাটানো সময় সীমিত করতে হবে। 


এছাড়াও চোখের দৃষ্টিশক্তির মায়োপিয়া রোধ করার জন্য কিছু ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ জাতীয় খাবার বেশি পরিমানে খেতে হবে। ভিটামিন- বি জাতীয় খাবার যেমন - দুধ, মাছ, ডিম, পনির, কলিজা এগুলো খেতে হবে। কেননা চোখে জ্যোতি বাড়াতে ভিটামিন বি এর তুলনা অপরিসীম। সবুজ শাক-সবজি, হলুদ ফলমূল, লৌহ জাতীয় খাবার খেতে হবে। এছাড়াও ছোট মাছ, লেবু, গাজর, বাদাম, ভূট্টা ইত্যাদি জাতীয় খাবার খেতে হবে। 




দৃষ্টিশক্তি (মনোপিয়ার) চিকিৎসা

দৃষ্টিশক্তি নিরাময়ের সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি হল সংশোধনমূলক লেন্স বা কন্টাক্ট লেন্সের সাহায্যে দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা। গ্লুকোমা, ছানি, রেটিনা অশ্রু এবং বিচ্ছিন্নতার মতো অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বিশ্লেষণ করতে রোগীকে পর্যায়ক্রমিক চেক-আপের জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকে। সংশোধনমূলক লেন্স কর্নিয়ার বর্ধিত বক্রতা বা চোখের বর্ধিত দৈর্ঘ্যের প্রতিহত করে। সেইসাথে দৃষ্টিশক্তির সমস্যার সমাধান করে। 


যদি কোন ব্যক্তি দৃষ্টিশক্তি সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে তাহলে তাকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপারেশন করে নিতে হবে। রিফ্র্যাক্টিভ সার্জারিতে লেজার রশ্মি কর্নিয়াকে নতুন আকার দিতে ব্যবহৃত হয়। যা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হ্রাস করে। ল্যাসিক হল আরেকটি আধুনিক অস্ত্রোপচার কৌশল। যেখানে কর্নিয়া থেকে টিস্যু অপসারণের জন্য একটি লেজার রশ্মি। দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভোগা বেশিরভাগ রোগীর জন্য এই চিকিৎসা নিরাপদ এবং কার্যকর। সেজন্য দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখার সাথে সাথেই চিকিৎসকের সাথে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা উচিত। 



Share

You May Like

Cloud categories

muscle spasm herpes simplex motion sickness cold corn herpes zoster runny nose influenza constipation anxiety injuries parkinson's disease gastric hepatitis-c osteoarthritis genital herpes rheumatoid arthritis fatigue pyelonephritis cervical cancer trichomoniasis surgery rubella dehydration abdominal pain contraception trachoma dementia cuts rough skin common krait allergies jaundice sunburn excessive sweating

নাক বন্ধ হলে এন্টাজল দিলে কি ক্ষতি হয়?

 নাক বন্ধে নাকের ড্রপ ব্যবহারে কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?উত্তর: কিছু কিছু নাকের ...

0 Like

যে সব খাবার অল্প বয়সেই আপনাকে বিপাকে ফেলতেপারে

প্রাত্যহিক জীবনে কতো কিছুই না খাওয়া হয়। কিন্তু সবকিছু কি আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাওয়া যায়? ...

0 Like

Never Take Medicine Without Consulting The Doctor.

Medicines have become a part of our life because every one of us needs them at least once ...

1 Like

কিছু অপ্রচলিত খাবার যেগুলো প্রয়োজনে ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়

১. ক্যাকটাস: ক্যাকটাস গাছের পাতা সাধারণত কাটাযুক্ত হয়ে থাকে। দক্ষিন আমেরিকায় এই গাছ বেশি জ ...

0 Like

শীতকালে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ স্বাভাবিক ব্যাপার তবে যারা দীর্ঘদিন নাকের ড্রপ ব্যবহার করছেন তাদের কিছুটা সতর্ক হওয়া দরকার

কিছু কিছু নাকের ড্রপ আছে যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে স্যাল ...

2 Like

রোজায় চোখ বা নাকের রোগীদের ড্রপ ব্যবহারে যে সমস্যা হয়

রোজায় চোখ বা নাকের রোগীরা যে সমস্যায় পড়েন সেটি হল রোজা রাখা অবস্থায় ড্রপ ব্যবহার করতে পারব ...

1 Like

ডেঙ্গু বা এডিস মশার ইতিহাস

এডিস মশা বিশ্বের অনেক বিপদজনক প্রাণীর মধ্যে একটি। ডেঙ্গু এবং পীতজ্বর এডিস মশার কামড়ের মাধ্ ...

0 Like

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী পেটের চর্বি গলানোর ৯ টি সহজ উপায়

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই ওজন কমানো নিয়ে অনেক বেশি চিন্তার মধ্যে থাকে। ভুল খাদ্যভাসের জন ...

1 Like