Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

ডিমেনশিয়া রোগ কিভাবে হয়? এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

Fahima Jara Wednesday, January 12, 2022


ল্যাটিন শব্দ Demantare থেকে ডিমনেশিয়া শব্দটি এসেছে। ডিমেনশিয়া সাধারণত ব্যক্তির জ্ঞানীয় চিন্তাকে প্রভাবিত করে। ডিমেনশিয়া স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, ভাষা, বিচার এবং আচরণকে ধীরে ধীরে লোপ করে দেয়। ডিমেনশিয়া অসুস্থতা বা আঘাতের কারণে হয়ে থাকে । ডিমেনশিয়াকে কোন রোগ বলা যাবে না। ডিমেনশিয়া বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। কিছু ধরণের ডিমেনশিয়া আস্তে আস্তে বারে, আবার কিছু স্থবির এবং চিকিৎসাযোগ্য। ডিমেনশিয়া সারা বিশ্বে বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। শুধু যে বয়স্কদের ডিমেনশিয়া হয় এমনটা নয়৷ কম বয়সী পুরুষ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রেও ডিমনেশিয়ার প্রভাব দেখা দেয়। 




ডিমেনশিয়ার প্রকারভেদ রয়েছে।যেমন-

১. ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া 

২. অ্যালঝেইমার

৩. হান্টিংটন

৪. লিউয়ি বডি

৫. ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া 


এগুলো ছাড়াও ডিমেনশিয়ার প্রভাবে আল্জ্হেইম নামক রোগ দেখা দেয়। এটি এমন একটি রোগ যার কারণে স্মৃতিশক্তি কমে যায় এবং অন্যান্য মানসিক কার্যকারিতা সময়ের সাথে সাথে খারাপ হয়ে যায়। আল্জ্হেইমের রোগে আক্রান্ত রোগীদের মস্তিষ্কে প্লেক এবং জট থাকে। এই ক্লাম্পগুলি সুস্থ নিউরন এবং তাদের সাথে যুক্ত ফাইবারগুলির ক্ষতি করে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা৷ 


অন্যদিকে ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কে রক্ত ​​সরবরাহকারী ধমনি ক্ষতি হওয়ার কারণে এই ধরনের ডিমেনশিয়া হয়। রক্তনালীর সমস্যাগুলির কারণে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভবনা থাকে৷ যেটা মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন - শ্বেত পদার্থের তন্তুগুলির ক্ষতি করা।




আরও কিছু ধরনের ডিমেনশিয়া আছে। যেমন- 

১. লুই বডি ডিমেনশিয়া

২. Frontotemporal স্মৃতিভ্রংশ

৩. মিশ্র ডিমেনশিয়া




ডিমেনশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রোগ যুক্ত থাকে। যেমন- 

১/ হান্টিংটন রোগ: এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ জিনের কারণে হয়ে থাকে। 

২/ Creutzfeldt-Jakob রোগ: একটি মস্তিষ্কের ব্যাধি যা ডিমেনশিয়া এবং মৃত্যুর দিকে পরিচালিত করে।

৩/ পারকিনসন্স ডিজিজ: পারকিনসন্স ডিজিজ একটি মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার যা স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে।

৪/ ট্রমাটিক মস্তিষ্কের আঘাত (টিবিআই): টিবিআই দ্বারা সৃষ্ট যে কোনো বাহ্যিক আঘাত, সাধারণত মাথায় আঘাত হানলে মস্তিষ্কের কর্মহীনতা হয়।




অনেক সময় চিকিৎসার পরে ডিমেনশিয়ায় বিপরীত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। যেমন- 

১. সংক্রমণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। 

২. বিপাকীয় সমস্যা এবং অন্তস্রাবের অস্বাভাবিকতা৷ 

৩. পুষ্টির ঘাটতি

৪. ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

৫. মস্তিষ্কের টিউমার




ডিমেনশিয়ার কারণ 

ডিমেনশিয়া নিউরন কোষের অবক্ষয়ের কারণে বা নিউরনের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে এমন ব্যাঘাতের কারণে ঘটে। অনেক সময় অবস্থার কারণের উপর নির্ভর করেও ডিমেনশিয়া হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:


১. মস্তিষ্কের কাঠামোগত ব্যাধি

২. হাইপোথাইরয়েডিজম

৩. ভিটামিন বি -12 এর অভাব

৪. কিডনি এবং লিভারের রোগ

৫. লিড টক্সিন


এগুলো ছাড়াও কিছু কারণ রয়েছে যেগুলো ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে, যেমন- 

১. বয়স

২. পারিবারিক ইতিহাস

৩. ডায়াবেটিস

৪. ডাউন সিনড্রোম

৫. হৃদরোগ

৬. নিদ্রাহীনতা

৭. বিষণ্ণতা

৮. ধূমপান করা

৯. অ্যালকোহল ব্যবহার

১০. অস্বাস্থ্যকর খাবার

১১. স্ট্রোক

১২. মস্তিষ্কের সংক্রমণ




ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলি হল:

১/ স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা : অতীত কোন বিষয় ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীর মনে থাকে না। মনভুলানো মতো হয়ে যায়। অর্থাৎ নিজের সম্পর্কে জানা সকল তথ্য একসময় গুলিয়ে ফেলে। পরিবারের সদস্যদের চিনতে সংকোচ বোধ করে। সব কিছুকে নিজের অজানা মনে হয় ডিমেনশিয়া রোগীর কাছে। 


২/ শেখা কাজ ভুলে যাওয়া : ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা দৈনন্দিন করা কাজই ভুলে যায়৷ যেমন- রান্না করা, পড়াশোনা, কিভাবে কাপড় পরতে হয় ইত্যাদি। এসব কাজ করতে গেলেও নিজেরা তখন আর মনে করতে পারে না। প্রতিটি কাজকেই তার কাছে তখন নতুন মনে হয়। 


৩/ ভাষাগত বিভ্রান্তি : কোন কথা কোথায় বলা উচিত এবং কোন কথা কোথায় বলা উচিত না এটা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা বুঝতে পারে না৷ এমনকি তারা মাঝে মাঝে কথার মাঝে কিছু কিছু শব্দ বলতেও ভুলে যায়। 


৪/ বিবেক বোধের অভাব : কোথায় কেমন পোশাক পরিধান করা উচিত এটা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা বুঝে না। অরুচি সম্পূর্ন পোশাক পরিধান করেও তারা বের হতে পারে। খুশি মূহুর্তে তারা কান্না করে এবং কষ্টের সময় হাসিখুশি থাকে। 


৫/ সময় দিন গুলিয়ে ফেলা : বার, তারিখ এগুলো সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই থাকে না। মাঝে মাঝে নিজে যে জায়গায় বসবাস করে সেই জায়গার ঠিকানাও সে ভুলে যায়। 




ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ

ডিমেনশিয়া সম্পূর্ন ভাবে প্রতিরোধ করা কঠিন। তবে জীবনধারার কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। এই ধরনের পরিবর্তনগুলি হল:


১. নিয়মিত ব্যায়াম করা 

২. ধূমপান এবং মদ্যপান পরিহার করা

৩. বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী মাঝারি ওজন বজায় রাখা

৪. পুষ্টিকর খাদ্যভাস মেনে চলা 

৫. উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখা

৬. সবার সাথে মিশতে হবে৷ ঘরে একা একা সবসময় বসে থাকা যাবে না। 

৭. বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। প্রয়োজন হলে সবজির বাগান, ফুলের বাগান ইত্যাদি করা যেতে পারে। 

৮. হাসিখুশি থাকা 

৯. বাড়ির সকল প্রকার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করা।

১০. অবসর সময়ে বিভিন্ন রকম মজার এবং শিক্ষামূলক ম্যাগাজিন পড়া, গল্পের বই পড়া। 




ডিমেনশিয়ার চিকিৎসা

ডিমেনশিয়ার লক্ষন গুলো দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই রোগের প্রভাব যেন অতিরিক্ত হারে বেড়ে না যায় সেই দিকে খেয়াল রেখে চিকিৎসক রোগীর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকেন। সেইসাথে বিভিন্ন রকম ঔষধ সেবনের পরামর্শও দিয়ে থাকেন। 


চিকিৎসক রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে রোগীর চিন্তাশীল ক্ষমতা এবং শনাক্তকরণ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে থাকেন। অনেক সময় বিভিন্ন রকম থেরাপি দেয়া হয়ে থাকে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত রোগীদেরকে। যাতে করে তারা স্বাবাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের দিকে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। কিন্তু অবস্থা অনেক খারাপ পর্যায়ের দিকে চলে গেলে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই পরিবারের কারো মাঝে যদি ডিমেনশিয়ার লক্ষন গুলো দেখা দেয় সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। 


Share

You May Like

Cloud categories

laryngitis skin infections dry mouth tia pain erectile dysfunction syphilis anxiety nose back pain insect bites excessive sweating disinfectant polycystic ovarian disease cancer pneumonia dermatitis tinnitus hypertension skin rash stress breast cancer gerd urethritis allergic rhinitis muscle aches iron deficiency anemia strains nausea and vomiting psoriasis leprosy hepatitis-c stiff neck skin diseases duodenal ulcer herpes simplex

হোমিওপ্যাথি কিভাবে কাজ করে ? চিকিৎসা নেয়ার আগে কিছু পরামর্শ

হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান । মনেরাখতে হবে যে, রোগের লক্ষণগুলোই রোগের প ...

0 Like

হোমিওপ্যাথি কিভাবে কাজ করে ?, চিকিৎসা নেয়ার আগে কিছু পরামর্শ

হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান । মনেরাখতে হবে যে,রোগের লক্ষণগুলোই রোগের পর ...

0 Like

অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে বিষণ্ণতার সৃষ্টি হয় সাথে বারে ওজন

ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে তাল মিলাতে গিয়ে অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে পারেন না অথবা অনেকে বিছা ...

0 Like

হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড কি সত্যি কানের মল দুর করতে পারে?

বাজারে যেইসব কানের ড্রপ পাউয়া যায় ওইগুলার একটা কমন উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড। কিন ...

2 Like

যে অভ্যাসগুলি কিডনীর ক্ষতি করে

১) মূত্রাশয় সময়মত খালি না করা২) পানি পান না করা৩) লবন বেশি খাওয়া৪) সাধারন সংক্রমনগুলি ঠিকভ ...

0 Like

ডেঙ্গু বা এডিস মশার ইতিহাস

এডিস মশা বিশ্বের অনেক বিপদজনক প্রাণীর মধ্যে একটি। ডেঙ্গু এবং পীতজ্বর এডিস মশার কামড়ের মাধ্ ...

0 Like

গর্ভাবস্থায় সহবাস করা কি ঠিক

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস সহবাস থেকে বিরত থাকাই ভালো । দ্বিতীয় তিনমাসে দম্পতির ইচ্ছে মতো স ...

0 Like

যৌন সংক্রামিত রোগ যা ট্রাইকোমোনিয়াসিস নামে পরিচিত, এটি কাদের বেশি হয়, এর চিকিৎসা ও প্রতিকার

ট্রাইকোমোনিয়াসিস হলো একটি যৌন সংক্রামিত রোগ। যা ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজিনালিস নামক ক্ষুদ্র এক- ...

0 Like