Health experience | Write here | Write and share your health experience to help community.

একজিমা ও স্কাবিস রোগটি থেকে কিভাবে পরিত্রাণ পাবেন

Fahima Akter Monday, August 02, 2021


স্কাবিস রোগটি চুলকানি নামে পরিচিত। এটি হলো ছোঁয়াচে রোগ। কোন এক ধরনের পরজীবীর আক্রমণে এই রোগ দেখা দেয়। পরিবারের কোন এক সদস্যর এই রোগ হলে তার সংস্পর্শে অন্য জনেরও হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এই রোগ অনেক বেশি দেখা দেয়। রোগীর ব্যবহৃত গামছা, জামা কাপড়, চাদর, বালিশের কভার ইত্যাদি ব্যবহারের ফলেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। 


এই রোগের লক্ষন হলো ঃ

আঙ্গুলের ফাঁকে, হাতের তালুতে, কবজিতে, বগল ও কনুইয়ে এসব স্থানে বেশি চুলকানি হয়ে থাকে এবং পরে সমস্যা দেখা দেয়। এই সব স্থানে ছোট ছোট গুটি সৃষ্টি হয় এবং সেই খান থেকে পানির মতো তরল বের হয়ে থাকে। চুলকানির ফলে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। রাতে বিশেষ করে বেশি চুলকায়।


রোগ প্রতিরোধ ঃ

এই রোগ যেহেতু ছোঁয়াচে তাই রোগীর ব্যবহৃত কোন জিনিস সুস্থ মানুষের ব্যবহার না করাই ভালো এবং সুস্থ কোন মানুষের রোগীর সংস্পর্শে আসা উচিত নয়। 



এই রোগ ভালো হওয়ার পর পরই রোগীর সবকিছু গরম পানি ভালো ভাবে ফুটিয়ে সেখানে ধুয়ে নিতে হবে। এতে করে রোগজীবনু গুলো মরে যাবে। সেই সাথে ভালো কোন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। 


আমাদের দেশের অনেক মানুষের হাতে একজিমা হয়ে থাকে। একজিমা হলে অনেক সমস্যার মুখে পরতে হয়। একজিমা হলে হাতের তালু, বিশেষ করে আঙ্গুল লাল হয়ে যায়, শুকনো হয়ে যায়, মসৃন উজ্জল সমতল হাতের তালু সামান্য ঘষাতেই ফেটে যায়। বিশেষ করে ছোট বাচ্চার মায়েদের যাদের বারবার হাত ভিজাতে হয় ও শুকাতে হয়, দন্ত চিকিৎসক, ডিস ওয়াসার, যারা ক্যামিকেল নিয়ে কাজ করে এদের বেশিরভাগ সময় হাতে একজিমা দেখা দেয়। 


হাতের একজিমা চিকিৎসায় বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন তারতম্য দেখা দেয়। রোগের প্রতিকারের জন্য যেগুলো করতে হবে ঃ

১. যতটুকু সম্ভব হাত কম ধুতে হবে। একজিমার সময় হাতে সাবান ব্যবহার না করাই ভালো। ভালো মানের হ্যান্ডওয়াশ এবং সেই সাথে কুসুম কুসুম গরম পানিতে হাত ধুতে হবে। 

২. অন্যর সাহায্য নিয়ে মাথায় শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে, হাতে গ্লাভস পরে শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। 

৩. ঘরের কাজ করার সময়, যেমন- ঝাড়ু, মোছা, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি করার সময় হাতে সুতি, প্লাস্টিক অথবা রাবারের গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। 

৪. এমন কিছু স্পর্শ করা যাবে না যেগুলোর ফলে চুলকানির পরিমাণ বেড়ে যাবে। যেমন - গরম আলু ছোলা, বাচ্চাদের ডায়পার পরিষ্কার করা, মাছ- মাংস কাটা ইত্যাদি। 

৫. যতটা সম্ভব রাবারের গ্লাভস ব্যবহার না করাই উত্তম। কেননা এটা ব্যবহারে হাতে ঘাম জমে থাকে এতে করে চুলকানি অনেক বেড়ে যায়। সবচেয়ে ভালো সুতি গ্লাভস ব্যবহার করা। যার কারণে কয়েকজোড়া গ্লাভস কিনে রাখলে অনেক সুবিধা হয়।  


হাত সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে অবশ্যই সাবান ও হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালো ভাবে হাত ধুতে হবে। মহামারীর ভাইরাসটি যখন খুব দ্রুত আকারে ছড়িয়ে পড়ে তার থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার উত্তম উপায় হচ্ছে ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড খুব ভালোভাবে আঙ্গুলের চিপা দিয়ে, হাতের সামনে পিছনে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। যাতে করে হাতে কোন জীবানু না থেকে যায়। 


আমরা জানি, শুকনা কাপড় বা তোয়ালের চেয়ে ভিজা কাপড় বা তোয়ালের মাধ্যমে জীবাণু খুব দ্রুত ছড়ায়। যার কারণে, হাত ভালো করে পরিষ্কারের পর অবশ্যই শুকনা কাপড়, তোয়ালে বা টিস্যু পেপার দিয়ে হাত মুছে ফেলতে হবে। 


মহামারীর সময় অনেকেরই একটা প্রশ্ন থেকে যায়, হাত ধোয়া বেশি ভালো? নাকি হাত স্যানিটাইজার করা ভালো? - সাধারণত সাবান দিয়ে হাত খুব ভালো ভাবে ধোয়া এবং হাত স্যানিটাইজার করা দুইটাই জীবাণু ধ্বংসের জন্য খুব ভালো। যার কারণে যখন ঘরের বাহিরে থাকা হয় তখন স্যানিটাইজার ব্যবহার করাই বেশি উওম। তবে, অ্যালকোহলমুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিভিন্ন রকম ব্যকটেরিয়া মেরে ফেললেও ভাইরাস র্নিমূল করে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে- রোটাভাইরাসের ক্ষেত্রে এটি বেশি কার্যকর নয়। 


এই মহামারী চলাকালীন সময়ে নিয়মিত হাতের যত্ন নেওয়া প্রতিটি মানুষের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ পরিষ্কার হাতের অভাবের কারণে অনেকে প্রচণ্ড একজিমা, প্রদাহজনক এবং সংক্রামক হাতের রোগে ভুগছেন। আমাদের অবশ্যই হাত পরিষ্কার ও অণুজীব থেকে নিরাপদ রাখতে হবে। পরিষ্কার হাত জীবনকে করে তোলে আরো সুন্দর। নিয়মিত হাত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে প্রত্যাহিক জীবনের পরিবারে সকলের মধ্যে সুন্দর দৃষ্টান্ত উপাস্থাপন সৃষ্টি হয়ে থাকে।



Share

You May Like

Cloud categories

hepatic encephalopathy hyperuricemia pid high cholesterol common krait pain and fever migraine first vitamin-b reduces wrinkles russell's viper and saw-scaled gastric ulcer calcium supplement eczema aids cystitis fungal infections hepatitis b kidney disease shoulder pain influenza dandruff ovarian cancer stiffness cirrhosis mumps fibromyalgia hypothyroidism etc vitamin a deficiency aggression pneumonia severe diarrhea gastric nutrition

হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড কি সত্যি কানের মল দুর করতে পারে?

বাজারে যেইসব কানের ড্রপ পাউয়া যায় ওইগুলার একটা কমন উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড। কিন ...

2 Like

যৌন সংক্রামিত রোগ যা ট্রাইকোমোনিয়াসিস নামে পরিচিত, এটি কাদের বেশি হয়, এর চিকিৎসা ও প্রতিকার

ট্রাইকোমোনিয়াসিস হলো একটি যৌন সংক্রামিত রোগ। যা ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজিনালিস নামক ক্ষুদ্র এক- ...

0 Like

চোখ ওঠা রোগ কেন হয় ও এর প্রতিকার

দেশে এখন চোখ ওঠা রোগের প্রাদুরভাব বেড়ে গেছে । এটি একটি স্পর্শকাতর ও ছোঁয়াচে রোগ। চোখ ওঠাকে ...

0 Like

কচু শাক খেলে যেসব উপকার পাওয়া যায়

বাংলাদেশে শাক হিসেবে কচু শাক বেশ জনপ্রিয়। আয়রনসমৃদ্ধ বলে এর সমাদরও বেশি। রক্তে হিমোগ্লোবিন ...

0 Like

একজিমা ও স্কাবিস রোগটি থেকে কিভাবে পরিত্রাণ পাবেন

স্কাবিস রোগটি চুলকানি নামে পরিচিত। এটি হলো ছোঁয়াচে রোগ। কোন এক ধরনের পরজীবীর আক্রমণে এই রো ...

0 Like

যেসব কাজ করলে ভ্যারিকোস শিরা বা রক্তনালির প্যাচানো রোগ হয়, এর থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন এবং এর চিকিৎসা

রক্তনালির একটি সাধারণ রোগ ভ্যারিকোস শিরা। ভ্যারিকোস শিরা ত্বকের নিচে প্যাচানোর মতো হয়ে থা ...

0 Like

যেভাবে হাতের যত্ন নিতে হবে

বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও মহামারী চলছে। আর এই মহামারিতে হাতের যত্ন এক ...

0 Like

যৌনাঙ্গ ক্যান্ডিডিয়াসিস বা ছত্রাক সংক্রমণ কি? এটা কিভাবে ছড়ায়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

ক্যান্ডিডিয়াসিস হল এক ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ। যা ক্যান্ডিডা নামক এক ধরনের খামিরের কারণে হয ...

0 Like